
শেষ আপডেট: 4 September 2018 18:30
সরশুনা হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্র সরশুনা কলেজ থেকেও ভাল রেজাল্ট করে বেরিয়েছেন। টানাটানির সংসার। তাই ছোট থেকেই বেহালায় মামারবাড়িতে বেড়ে ওঠা। বই পড়তে বরাবরই ভালবাসতেন সৌমেন। আত্মীয়েরা জানিয়েছেন, বই মুখে নিয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতে পারতেন। তাই বই কিনতেই প্রায় কলেজ স্ট্রিট যেতেন সৌমেন। মঙ্গলবারও গিয়েছিলেন। কিন্তু, ফিরে এল তাঁর নিথর দেহ।
মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে রাজ্যের পূর্ত দফতর। কারণ মাত্র ছ'মাস আগেই এই ব্রিজের ফিট সার্টিফিকেট দিয়েছিল তারা। পোস্তা উড়ালপুল ভেঙে পড়ার পর শহর কলকাতার সেতুগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়াররা শহরের সব সেতুর হালহকিকত খতিয়ে দেখতে শুরু করে। সেই হিসাবে রিপোর্ট জমা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশকিছু সেতুতে খুব দ্রুত কাজের প্রয়োজন আছে বলে উল্লেখ করা হয়। সেই মোতাবেক ইতিমধ্যেই ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাজ করেছে পূর্ত দফতর। কিন্তু মাঝেরহাটের এই ব্রিজকে ফিট বলেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। নবান্ন সূত্রে খবর, সেই রিপোর্টের কথা মাথায় রেখেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সবই তো হল। কিন্তু, যে তাজা প্রাণটা অকালেই ঝরে গেল তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি? এখন অনেক অভিযোগের আঙুল উঠবে। অনেক কাদা ছোড়াছুড়ি হবে। কিন্তু, যে মা তাঁর সন্তান হারালেন তাঁর খবর কে নেবে? ক্ষতিপূরণের টাকায় দু'বেলার অন্ন সংস্থান হতে পারে, যে দগদগে ক্ষত সৌমেনের বাবা, মায়ের মনকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে শেষ করে দিচ্ছে তার মেরামতি হবে কী ভাবে? আগামী দিনে এই মৃত্যুর ঘটনা খবরের কগজে, পুলিশের ফাইলে বন্দি হয়ে থেকে যাবে। ভেঙে পড়া সেতুর মেরামতিও হবে। নতুন করে চলবে যানবাহন। দুর্ঘটনার শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেলা হবে সুনিপুণভাবে। আবার আলোয় ভরে উঠবে রাস্তা। তবে, যে পরিবার তার সব হারালো সেই সৌমেন বাগের বাড়িতে আর সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলবে কি?