
শেষ আপডেট: 2 November 2018 18:30
বাঘিনীর মৃত্যুর পরই তার শিকার পদ্ধতি ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠন। অবনী শিকারের সঙ্গে জড়িত এক বাঘশিকারীর কথায়, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয় বাঘিনীকে। তার আগে নাকি তাকে অজ্ঞান করার চেষ্টা হয়েছিল, তাও মাত্র কিছু সময়ের জন্য। জেগে ওঠার পরই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পেটার দাবি, বাঘিনীকে জীবন্ত ধরার চেষ্টা করা হল না কেন? প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অবনীকে ঠিক ভাবে অজ্ঞান করা হয়নি। বরং তাকে ফাঁদে ফেলতেই একটা ছক কষা হয়েছিল। বিভিন্ন পশুপ্রেমী সংগঠনের মতে, বাঘ ধরার যে নিয়মগুলি আছে তার কোনওটাই ঠিকভাবে পালন করেনি বন দফতর। বাঘশিকারীকে দিয়ে রাতের অন্ধকারে অবনীকে গুলি করা হয়েছে। তাহলে দিনের আলোয় তাকে ধরার চেষ্টা হল না কেন? উঠেছে সেই প্রশ্নও।
[caption id="attachment_48758" align="aligncenter" width="543"]
দাহ করা হল অবনীকে[/caption]
যদিও বনকর্মীদের দাবি, অবনীকে ধরতে অন্যান্য বাঘিনীদের মূত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার টানেই শিকারীদের ধারেকাছে এসে পড়েছিল সে। তখনই তাকে অজ্ঞান করা হয়। খোলা জিপে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময়েই আচমকা জেগে ওঠে বাঘিনী। তাই তাকে গুলি করতেই হয়।
প্রশ্ন উঠেছে, মানুষখেকো বাঘিনীকে ধরতে জঙ্গলের কোর এলাকায় কেন খোলা জিপে গেছিলেন শিকারীরা। এমন কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল যাতে বাঘিনী কয়েক মিনিটের মধ্যে জেগে ওঠে। তাহলে তাকে অজ্ঞান করার গল্পটা নেহাতই একটা ধাপ্পা? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য?
এলাকাছুট হয়ে অনেক সময়েই লোকালয়ের কাছাকাছি এসে পড়ে বাঘিনীরা। খাবারের অভাব এবং নিরাপত্তার অভাবে অনেক সময়েই দেখা যায় এই সব বাঘিনীরা মানুষকেই তার শিকারে পরিণত করে। পেটার মতে, অবনীকে সেই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করাই যেত। তা না করে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হল। এটা গোটা বিশ্বের কাছেই অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।