দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেমন হয় যদি বিশ্বের নামী শহরগুলি ঘুরে আসা যায় একটাই উড়ানে? দীর্ঘ বিরতিহীন সফরের জন্য থাকবে আধুনিক ব্যবস্থাও? যাত্রীদের তেমনি ইচ্ছা পূরণ করার জন্য কোমর বেঁধে নামছে অস্ট্রেলিয়ার নামী বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ। ২০ ঘণ্টার বিরতিহীন উড়ানে ঘুরে আসা যাবে সিডনি থেকে লন্ডন, এমনকি নিউ ইয়র্কও।
কোয়ান্টাসের শীর্ষ আধিকারিক এলান জয়েস জানিয়েছেন, এমন বিমান তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিকাঠামোগত কোনও ত্রুটি না থাকলে আশা করা যায় ২০২২ সালের মধ্যেই এই এয়ারক্রাফ্ট তার প্রথম উড়ান শুরু করবে। বোয়িং এবং এয়ারবাসকে এমন বিমান তৈরির জন্য ওপেন চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি। এলানের কথায়, ''আমরা যখন মনে করেছি, তখন এমন বিমান বানাবোই। সব রকম সুবিধা থাকবে এই বিমানে।''
কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ এই নতুন প্রকল্পের নাম দিয়েছে 'প্রজেক্ট সানরাইজ'। সাংবাদ মাধ্যমকে এলান বলেছেন, প্রায় ৩০০ জন যাত্রীর বসার জায়গা থাকবে এই বিমানে। যাত্রীদের কাছে তাঁদের ব্যাগপত্তর ছাড়াও থাকবে বিমানের জ্বালানী। বিরতিহীন উড়ানের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। প্রয়োজনে সেই জ্বালানী ব্যবহার করা যাবে। প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি ঘুরিয়ে দেখাবে এই এয়ারক্রাফ্ট। তবে, সেই তালিকাটা আরও দীর্ঘ হতে পারে বলেই জানিয়েছেন এলান।
কী কী থাকবে এই বিমানে?
এলান জয়েসের মতে, প্রথাগত ধারণার থেকে বেরিয়ে এসে একটু অন্য কিছু ভাবার চেষ্টা হয়েছে। যাতে যাত্রী আকর্ষণ অনেক বাড়ে। যেমন, অত্যাধুনিক বাঙ্ক-বেড, শিশুদের খেলার জন্য বিশেষ এলাকা, নার্সারি, ওয়ার্কআউটের জন্য জিম, বার-সহ থাকবে আরও চমক। যাত্রী পরিষেবাও হবে উন্নতমানের।
গত এপ্রিলেই উড়ানে নতুন চমক আনার কথা ঘোষণা করেছিল এয়ারবাস। তার পরই প্রোজেক্ট সানরাইসের কথা প্রকাশ্যে আনে কোয়ান্টাস। এয়ারবাস ৩৫০ এবং বোয়িং ৭৭৭ এক্স ইতিমধ্যেই রয়েছে প্রতিযোগিতায়। অক্টোবর ১১-তে সিঙ্গাপুর থেকে লন্ডনগামী দীর্ঘ সফর চালু করেছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সও। তবে, প্রজেক্ট সানরাইস সফল হলে তা যে কোনও নামী বিমান সংস্থাকেই টক্কর দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন এলান
কুইনসল্যান্ডে ১৯২০ সালে তৈরি হয়েছিল কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ। ১৯৩৫ সালে প্রথম অস্ট্রেলিয়া থেকে লন্ডন অবধি দীর্ঘ সফর করেছিল কোয়ান্টাস এয়ারক্রাফ্ট। সাড়ে ১২ দিনের ওই সফরে যাত্রীদের দেওয়া হয়েছিল উন্নতমানের পরিষেবা। সেই স্মৃতি ফেরাতেই ফের এই উদ্যোগ করেছে কোয়ান্টাস। তবে নতুন উড়ান হবে অনেক বেশি আধুনিক। তালিকায় থাকবে অনেক বেশি শহর।
মার্চ মাসেই পার্থ থেকে লন্ডন অবধি নতুন সফর চালু করেছে কোয়ান্টাস। এটাই অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে প্রথম সরাসরি বিমান সংযোগ। তবে, প্রজেক্ট সানরাইসের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।