
শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 5 September 2024 00:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি করে ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ-খুনের বিচার চেয়ে বুধবার রাত ৯টা থেকে ১০টা, ১ ঘণ্টা ঘরের আলো নিভিয়ে মোমবাতি হাতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। বাস্তবে দেখা গেল, ৯টার অনেক আগে থেকেই পথে নামলেন জনতা এবং রাত ১১টার পরও কলকাতা থেকে জেলা, বহু এলাকায় মানুষের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিন দলের পতাকা ছাড়া হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় এমনই একটি মানববন্ধনে হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তবে এদিনের শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পদ্ধতির 'পরিবর্তন' করা দরকার বলে মনে করেন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর কথায়, "জনমত অত্যন্ত তীব্র, জনরোষ বাড়ছে, শুধু আন্দোলনের পদ্ধতির পরিবর্তনের দরকার। ২৭ তারিখ (নবান্ন অভিযান) যুব সমাজ যা দেখিয়েছেন আগামীদিনে আরজি করের বিচার ও মা বোনেদের সুরক্ষার জন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর দেখানো সেই পথে গণ আন্দোলন, গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।"
বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "যতই শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করুন না কেন এই দু'কান কাটা ধর্ষকদের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রীর রাজত্বে প্রকৃত খুনীরা শাস্তি, আরজি কর বিচার পাক এটা কোনওদিনই সম্ভব নয়। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে এটা বলতে পারি। নেতাজির দেখানো পথে ওঁকে নবান্ন থেকে তুলে এয়ারপোর্টে বসিয়ে দিয়ে আসতে হবে।"
শুভেন্দু এও বলেন, "আইন তৈরি হয় মানুষের জন্য। জনগণকে বলব- জাতির জনক গান্ধীজির নীতি যেমন দরকার ছিল তেমনই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু না হলে ব্রিটিশরা যেত না। এই অত্যাচারী শাসককে বাংলা থেকে উৎখাত করতে হলে নেতাজির পথে অগ্রসর হতে হবে যা ২৭ তারিখ (নবান্ন অভিযান) যুব সমাজ দেখিয়েছে। এটাই আন্দোলনের পথ।"
প্রসঙ্গত আরজি করের দোষীদের সাজা চেয়ে পথে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। কলকাতা থেকে জেলা, তৃণমূলের উদ্যোগে সংগঠিত হচ্ছে প্রতিবাদ মিছিল। এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন,"আরজি করের ঘটনা অন্য যেকোনও নারী নির্যাতন বা ধর্ষমের ঘটনার চেয়ে আলাদা। কারণ, এটি সরকারি ধর্ষণ এবং খুন। ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করার পর ডাক্তিরা বোনটি সরকারের লোকদ্বারা ধর্ষিতা হয়েছেন, তাঁর দেহ তাড়াতাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ইউডি কেস করা হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা হয়েছে এবং খুনী ধর্ষকদের যাতে শাস্তি না হয় তাই সন্দীপ ঘোষ ও বিনীত গোয়েলকে দিয়ে ৪ দিন ধরে তথ্য লোপাট করানো হয়েছে। তাই আরজি করের বিচার চেয়ে শাসকদলের একটাও কথা বলার অধিকার নেই। এটা বাংলার কথা, জনগণের কথা।"
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরা বুধবারও সাংবাদিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সহপাঠীর ধর্ষণ-খুনের বিচারের দাবিতে তাঁদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং রাজনীতির ছোঁয়া বাঁচিয়েই তাঁরা 'জাস্টিস ফর আরজি কর' এর আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।