
শেষ আপডেট: 5 March 2024 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পদত্যাগ করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতিকে চিঠি পাঠিয়ে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। দুপুর ১২ টা নাগাদ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে জানালেন, সূর্য সেনের মূর্তির পাশে সাংবাদিক বৈঠক করবেন না তিনি। বদলে তাঁর সল্টলেকের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন।
বিচারপতি পদ ছাড়ার সঙ্গেই তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যার জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন হাইকোর্টের সামনে মাস্টারদা সূর্য সেনের মূর্তির পাদদেশকে। কিন্তু প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বেরিয়ে এসে পট পরিবর্তনের কথা জানালেন সদ্য প্রাক্তন বিচারপতি। যার কারণ হিসাবে তিনি জানান, হাইকোর্ট চত্বরে সারা বছরই ১৪৪ ধারা থাকে। তাই সেখানে তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে আইন ভাঙতে চান না।
এদিন মঙ্গলবার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টের সামনে সাংবাদিক বৈঠক করলে তাঁকে ঘিরে কালো পতাকা দেখানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আইনজীবীদের একাংশ। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিচারপতি পদ ছাড়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও পালটা কর্মসূচি নিয়েছিলেন। খবর পেয়ে সতর্ক হয়েছিল পুলিশও। অন্যান্য দিনের তুলনায় হাইকোর্ট চত্বরে ছিল বাড়তি পুলিশ।
সোমবার থেকেই প্রাক্তন হতে চলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে রেখেছিলেন কল্যাণ। মঙ্গলবার অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের ঠিক উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থির করেছিলেন তিনি। ফলে পদত্যাগের দিনেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করার সিদ্ধান্তে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সেই জটিলতা এড়িয়ে গেলেন বলেই মনে করছে হাইকোর্টের আইনজীবীদের একাংশ।
এদিন সকাল ১০টার খানিক বাদেই কলকাতা হাই কোর্টে আসেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ডাকযোগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের সঙ্গে দেখা করতে যান বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।