
রাধারমণ দাস।
শেষ আপডেট: 28 November 2024 19:02
প্রীতি সাহা
কার স্বার্থে হঠাৎ করে ইসকনকে ব্যান করার কথা বলা হচ্ছে? কেনই বা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসকনের তুলনা হবে? ইউনুস তো শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছিলেন? এই তাঁর আচরণ?
নাগাড়ে প্রশ্নগুলি যিনি ছুড়ছিলেন তিনি ইসকনের কলকাতার অন্যতম কর্মকতা রাধারমণ দাস। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অশান্তি নিয়ে উদ্বেগে ইসকনের কলকাতা শাখাও। বৃহস্পতিবারএকান্ত সাক্ষাৎকারে দ্য ওয়ালের কাছে নিজেদের সেই আশঙ্কার কথা তুলে ধরলেন রাধারমণ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ইসকনের ওপর নেমে আসা অত্যাচারের ঘটনায় তিনি যে ব্যথিত, তাও অকপটে জানিয়েছেন।
বলছিলেন, "ইসকনকে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে। আতঙ্কে গত ২ দিন ঘুমোতে পারিনি। শরীরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।"
রাধারমণ আরও বলেন, "ইসকনের লোকজন খুবই শান্তপ্রিয়। আমি নিজে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনয়র ছিলাম। বহু কীর্তি ইসকনে রয়েছে, যারা মানব সেবার জন্য ইসকনে যোগ দিয়েছেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর ভাবধারা নিয়ে চলা ইসকনকে বলা হচ্ছে, জঙ্গি গোষ্ঠী! অ্যার্টনি জেনারেল কোর্টে বলছেন- ইসকনকে ব্যান করার কথা। এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?"
হাসিনা পরবর্তী সময়েও বাংলাদেশে শান্তি ফেরেনি। বরং মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অতীতে হিংসার ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ইসকনের প্রাক্তন কর্মকর্তা তথা বাংলাদেশের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মুখ চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের পর নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলও।
কোভিডের সময় ১৫ কোটি মানুষকে রেশন সরবরাহ করেছেন, জানিয়ে রাধারমণ বলেন, "এর আগেও ২০২১ সালে বাংলাদেশে হিন্দুদের মন্দিরে আক্রমণ করা হয়েছিল। তখনও আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম, কীর্তনের মাধ্যমে। এখনও একইভাবে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তারপরও আমরা নাকি টেররিস্ট?"
খানিক থেমে যোগ করলেন, "হাসিনা দেশ ছাড়ার পর শেষ ১০০ দিনে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়েছে। সংখ্যালঘুরা আতঙ্কিত। ওরা হামলার পর আতঙ্ক ছড়াতে সগর্বে সেই ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। কতটা নৃশংস হলে এমনটা হয়!" একই সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ছুড়ে দিয়েছেন প্রশ্ন, "ইউনুস তো শান্তির জন্য নোবেল পেয়েছিলেন? এই তাঁর আচরণ?"