
হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 15 March 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরপর তিনবার শোকজ হলে চাপ যে আরও বাড়বে তা বিলকুল জানা আছে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir)। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে চার মাসে দু'বার শোকজ হয়েছেন তিনি। তিনবার শোকজ হওয়ার অর্থ দল থেকে সাসপেন্ড।
এদফায় প্রথমে সময় চেয়ে নিয়েও শনিবার তৃণমূলের বিধানসভার পরিষদীয় কমিটির চেয়ারম্যান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে শো-কজের জবাব পাঠিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর 'চ্যাংদোলা করে ফেলব' মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিতর্কিত মন্তব্য করে বৃহস্পতিবার দলের শোকজের মুখে পড়েছিলেন হুমায়ুন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছিল। তবে দোল, হোলি উৎসবের কথা বলে সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
শনিবার অবশ্য এক পাতার শোকজের জবাবে দু'পাতার জবাবী চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। টেলিফোনে বললেন, "আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। দল যা জানতে চেয়েছিল তার জবাব দিয়েছি।" একই সঙ্গে এও জানালেন, শোকজের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সোমবার বিধানসভায় গিয়ে তৃণমূলের বিধানসভার পরিষদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখাও করবেন।
যা থেকে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, শাস্তির খাঁড়া থেকে বাঁচতে শুধু চিঠিতে নয়, সরাসরি সাক্ষাতের পথে হাঁটতে চাইছেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক। যদিও এদিনও হুমায়ুন দাবি করেছেন, তিনি কোনও ভুল কথা বলেননি।
কী বলেছিলেন হুমায়ুন?
ঘটনার সূত্রপাত, গত মঙ্গলবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ছিল, ''এরা (তৃণমূল) বাংলার হিন্দু জনগণকে উপড়ে ফেলতে চাইছে। এই ঔদ্ধত্য দিল্লিতে কেজরিওয়াল করেছিল বলে ওখানকার মানুষ আপকে উপড়ে ফেলেছে। আগামী বছর বাংলাতেও তাই হবে। ওদের দলের যে সব মুসলিম বিধায়ক জিতে আসবে তাদের চ্যাংদোলা করে ১০ মাস পরে এই রাস্তায় ফেলব!''
যার জবাবে হুমায়ুন বলেছিলেন, 'মারতে এলে রসগোল্লা খাওয়াবো নাকি? ঠুসে দেব! দলের থেকে আমার কমিউনিটি আগে!' প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। হুমায়ুন বলেন, "আমরা যখন কিছু বলি তখন প্রশাসন তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেয়। আর আজ প্রশাসন চুপ কেন?"এরপরই দলের কোপে পড়েন হুমায়ুন। সোমবার শোভনদেবের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারেন কিনা, এখন সেটাই দেখার।