
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 August 2024 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'নো সেফটি, নো ডিউটি', স্লোগানকে সামনে রেখে কর্মস্থলে ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে আরজি কর-সহ রাজ্যের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতিতে নেমেছেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনড় তাঁরা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা। দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা কাটাতে আরজি করে বৈঠকে বসলেন স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের প্রতিনিধিরাও।
সূত্রের খবর, আরজি করের বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা কৌস্তভ নায়েক-সহ একাধিক কর্তা উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে রয়েছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের নব নিযুক্ত অধ্যক্ষ মানসকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আন্দোলনকারীদের পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন তাঁরা। বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে কিনা এখন সেটাই দেখার।
আরজি করে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ১৩ অগস্ট কলকাতা পুলিশকে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তখনই আন্দোলনকারী পড়ুয়া চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, সিবিআই তদন্ত হওয়া মানেই দাবি মিটে গেল তা নয়! দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সিবিআই তদন্তভার গ্রহণের পর ৯ দিন অতিক্রান্ত। তদন্ত কতদূর এগোল? তা জানতে শুক্রবার বিকেলে আন্দোলনকারী পড়ুয়া চিকিৎসকদের এক প্রতিনিধি দল পৌঁছেছিল সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআইয়ের দফতরে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার পর বাইরে এসে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা জানান, "আদালতের নজরদারিতে তদন্ত চলছে, এই যুক্তিতে তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি সিবিআইয়ের কর্তারা। অথচ আমরা যে কটি দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলাম, তার মধ্যে প্রথমেই ছিল, তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জানাতে হবে।"
এরপরই আন্দোলনকারী পড়ুয়া চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, "আমরা বিচারের দাবিতে লড়ছি। সেটা না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফেরার প্রশ্নই ওঠে না।" অর্থাৎ বাংলাজুড়ে জুনিয়র চিকিৎসক ও চিকিৎসক পড়ুয়াদের কর্মবিরতি চলবে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবারই দিল্লির এইমস-সহ বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তাররা কাজে ফেরার কথা জানিয়েছেন। তবে সিবিআই তদন্তের গতি প্রকৃতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের আবেদন রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন বাংলার জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট। এখন দেখার এদিনের বৈঠক থেকে কোনও সমাধান সূত্র বের হয় কিনা।