
ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষ।
শেষ আপডেট: 25 April 2024 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত সোমবার ২০১৬ সালে পুরো প্যানেল বাতিল করেছে হাইকোর্ট। আদালতের রায়ে চাকরি খুইয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। নিয়োগ মামলায় জড়িত বাকিদের খোঁজে সিবিআইকে তদন্ত চালিয়ে যেতে বলেছে আদালত।
আদালতের ওই রায় সামনে আসার পরই সুপার নিউমেরিক পোস্ট তৈরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত সোমবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, "চোরদের নিয়োগ করার জন্য বাড়তি পোস্ট তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২২ সালের ৫ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল।" সেদিন ক্যাবিনেটে যারা উপস্থিত ছিল তাদের সবাইকে অবিলম্বে সিবিআই হেফাজতে নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে শুভেন্দুর ওই অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দিলেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ব্রাত্য বলেন, "সুপার নিউমেরিক পোস্ট থেকে সরকার কাউকে চাকরি দেয়নি। যে একজনকে দেওয়া হয়েছিল সেটা তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বর্তমানে বিজেপির তমলুক কেন্দ্রের প্রার্থীর নির্দেশে।"
বিজেপির তরফে ইতিমধ্যে দাবি করা হচ্ছে, অযোগ্যদের সুযোগ করে দিতেই রাজ্য ইচ্ছে করে যোগ্যদের লিস্ট হাইকোর্টে জমা দেয়নি। এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। ব্রাত্য বলেন, "স্কুল সার্ভিস কমিশন দু'বার এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছিল কারা অযোগ্য। সেই সংখ্যাটা ৮ শতাংশ। সবটাই আদালতকে জানানো হয়েছিল।" বস্তুত, এদিন এসএসসি ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে একই কথা জানিয়েছেন এসএসসির চেয়ারম্যানও।
ব্রাত্যর পাশাপাশি এদিন সাংবাদিক বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও। বুধবার বর্ধমানের সভা থেকে কলকাতা হাইকোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রস্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন একই সুরে কুণালও বলেন, "বিজেপির অফিস থেকে টাইপ করে কি আদালতে অর্ডার যাচ্ছে?"
খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন নিজেই, "যাঁদের দোষ নেই তাঁদেরও চাকরি কেড়ে নেওয়া হল। অবিচার করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিজেপি বলে দিচ্ছে আগে, তার পর কোর্টে চাকরি যাচ্ছে।’’
একই সঙ্গে এ ঘটনায় রাজ্যের মানুষের কাছে বিরোধীদের মুখোশও খুলে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন কুণাল। তাঁর কথায়, " চাকরি চলে যাওয়ার আনন্দে পৈশাচিক উল্লাস করা হচ্ছে। বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিএমের চরিত্র আজ মানুষের সামনে এসেছে। ওরা যে ধ্বংস ছাড়া সৃষ্টি করতে পারে না, সেটা স্পষ্ট। তবে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা চাকরিহারাদের পাশে রয়েছি। আইনি পথেই এর মোকাবিলা করা হবে।"