
শেষ আপডেট: 15 February 2024 15:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার পরিবর্তে বিজেপির হয়ে কাজ করছে বিএসএফ! বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা অধিবেশন থেকে সরাসরি এই অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধু অভিযোগ নয়, এ ব্যাপারে এদিন বিধানসভায় অধ্যক্ষর কাছে কিছু নথিও জমা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "গেরুয়া রঙের ব্যাগ নিয়ে সীমান্তে বিজেপির প্রচার করছে বিএসএফ। তোমার কাজ বর্ডার পাহারা দেওয়া, বিজেপির প্রচার করা নয়। আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে। আমি মাননীয় অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে সেই প্রমাণ হাউসে জমা করলাম।"
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, "নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও বিএসএফ দিয়ে, কোথাও সিআরপিএফ দিয়ে। আমি এটাকে ধিক্কার জানাচ্ছি।"
এই প্রসঙ্গেই চোপড়ায় চার শিশু মৃত্যুর ঘটনারও উল্লেখ করেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বিএসএফের কাজ কি? বর্ডার পাহারা দেওয়া। শিশুদের জীবনের কী কোনও দাম নেই। সেই বিএসএফের আমি শাস্তি চাই, যাদের কারণে চারটি শিশু মারা গেল।"
এ ব্যাপারে রাজ্য প্রশাসনকেও কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "আমি পুলিশ প্রশাসনকে বলছি স্ট্রং অ্যাকশন নিতে।"
সোমবার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় ৪ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ড্রেন খোঁড়ার কাজ চলছে। সোমবার সকালে জেসিবি দিয়ে চলছিল খোঁড়াখুঁড়ি। গ্রামের কচিকাঁচারা সেখানে খেলছিল। তখনই কাটা মাটির উঁচু ঢিবির তলায় বেশ কয়েকজন শিশু চাপা পড়ে যায়। তার মধ্যেই ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বিএসএফ-এর গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ এই ড্রেন খোঁড়ার কাজ তাঁদের উদ্যোগে হচ্ছিল।
ইতিমধ্যে চোপড়ায় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে তৃণমূল। রাজ্যপালের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। শাসকদলের প্রশ্ন, রাজ্যপাল যদি সন্দেশখালি যেতে পারেন, তাহলে বিএসএফ-এর গাফিলতিতে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় কেন তিনি যাবেন না?
এবার চোপড়া ইস্যুতে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে কোচবিহার থেকে বিএসএফ প্রসঙ্গে সীমান্তে বিশেষ ধরনের কার্ড বিলির অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। এদিন বিধানসভা থেকে আরও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্তে পাহারার নামে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে বিএসএফ যদি কাজ করে থাকে, তাহলে সেটা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। যদিও এব্যাপারে বিএসএফের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।