নন্দীগ্রামের রায়নগরের বাসিন্দা ওই তরুণী গত তিনদিন আগে নার্সিংহোমের কাজে যোগ দেন। অভিযোগ, বুধবার রাতে নার্সিংহোমের চারতলায় একটি ঘর থেকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে চলে যায়।

শেষ আপডেট: 14 August 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সিঙ্গুরের বোড়াই তেমাথা এলাকায় একটি নার্সিংহোমে এক নার্সের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নন্দীগ্রামের রায়নগরের বাসিন্দা ওই তরুণী গত তিনদিন আগে নার্সিংহোমের কাজে যোগ দেন। অভিযোগ, বুধবার রাতে নার্সিংহোমের চারতলায় একটি ঘর থেকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে চলে যায়। পরিবারের প্রশ্ন, কেন তারা আসার আগে পুলিশ তড়িঘড়ি মৃতদেহ তুলে নিয়ে চলে গেল? কী চাপা দিতে চাইছে পুলিশ! মৃতার বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, "তিন দিন আগে কাজে যোগ দিয়েছে মেয়েটা। এরমধ্যে এমন কী হল বুঝতে পারছি না। কাল রাতে আমাদের ফোন করে খবর দেওয়া হয় ও গলায় দড়ি দিয়েছে। রাত সাড়ে তিনটের সময় গাড়ি ঠিক করে সিঙ্গুরে এসে পৌঁছই। গেট লাগানো ছিল, গেট খুলে ভেতরে ঢুকি। মেয়ে কোথায় জানতে চাই। তখন বলে থানায় নিয়ে চলে গেছে। আমার মেয়ের মৃতদেহ আমাকে না দেখিয়ে কেন থানায় নিয়ে যাওয়া হল। আমার মেয়েকে এরা খুন করেছে। আমি উপযুক্ত তদন্ত চাই এবং নার্সিংহোম মালিকের শাস্তি চাই । তিনদিন হল কাজে যোগ দিয়েছে। আমার মেয়ে কোনওদিন আত্মহত্যা করতে পারে না। গত পরশুদিন রাত আটটা সাড়ে আটটার সময় আমার মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, তখন সে ভালভাবে কথা বলে।"
ঘটনা ঘিরে সকাল থেকেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পুলিশকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মানুষজন। মৃতের বাবা ও মাও রাস্তায় বসে পড়ে। পুলিশের সামনে এলাকার মানুষজন রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।
গত বছরের অগস্ট মাসে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল তরুণী চিকিৎসকের দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল তাকে। সেই ঘটনায় এখনও বিচার চেয়ে পথে পথে ঘুরছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। এবার নার্সিংহোমে তরুণী নার্সের দেহ মিলল। স্বভাবতই ক্ষিপ্ত এলাকার মানুষ।
নার্সিংহোমে ওই তরুণী নার্সের বান্ধবী মল্লিকা বাউরী বলেন, "ওকে কারও সাথে কথা বলতে দেখিনি, তবে কী কারণে এই ঘটনা তা বলতে পারব না। আমি যখন উপরে গিয়েছিলাম তখন দেখি ঘরের দরজা বন্ধ। জানলা দিয়ে দেখি গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। এর পরেই আমি সবাইকে বিষয়টি জানাই।"
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃশানু রায় বলেন, "একটা নার্সিংহোমে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আমরা মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছি। মৃতার পরিবার মৌখিকভাবে যেটা বলছে সেটা লিখিত আকারে অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।"