
শেষ আপডেট: 19 January 2024 18:31
কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র দু’দিন। তারপরেই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের গর্ভগৃহে স্থায়ী আসনে বসবেন রামলালা। তার আগে এখন পুণ্যার্থী আর পুলিশের দখলে গোটা নগর। একদিকে নিরাপত্তা রক্ষীদের ভ্রূকুটি আর তৎপরতা, অন্যদিকে উৎসবমুখর শহরের বাহারি রঙ। অযোধ্যায় আসা সবারই নজর কাড়ছে এই বিপরীতমুখী ছবিটাই।
২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুর ১২টায় রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা। তার আগে সাজো সাজো রব এখন গোটা অযোধ্যাজুড়ে। গোটা শহরজুড়ে রামের বড় বড় বাহারি প্ল্যাকার্ডে রঙিন হয়েছে অযোধ্যা। দেওয়ালে দেওয়ালে ফুলের শিকল। শহর সাজানোর দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের এখন দম ফেলারও ফুরসত নেই। রাম মন্দির এলাকায় বাড়িগুলিও মুখ ঢেকেছে বাহারি পতাকায়। শহর সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি যুদ্ধকালীন ভাবে চলছে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ।
রাম মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে আসা মানুষদের ন্যূনতম অসুবিধা যাতে না হয়, তারজন্য সতর্ক যোগী প্রশাসন। বিভিন্ন রাস্তার বাকি থাকা কাজ শেষ করতে জোরদার তৎপরতা চলছে। এর সঙ্গেই নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক যাতে না থাকে সেদিকে কড়া নজর রাখছে কয়েক হাজার নিরাপত্তা রক্ষী। সারাদিন শোনা যাচ্ছে ভিভিআইপিদের পাইলট কারের হুটারের শব্দ। শুক্রবার গোটা শহরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছে গেছেন অযোধ্যায়। ২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, ওইদিন সকালেই তাঁর অযোধ্যায় আসার কথা থাকলেও সেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সকালের দিকে প্রায়ই কুয়াশায় মুখ ঢাকছে দিল্লি। বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বিমান চলাচলে। ২১ তারিখই অযোধ্যায় চলে আসছেন নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবারই প্রায় দুশো কেজি ওজনের রামলালার মূর্তি বসে গেছে মন্দিরের গর্ভগৃহে। এবার মূর্তির প্রাণ প্রতিষ্ঠার পালা। যে শাস্ত্রীয় বিধি রয়েছে তা পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
ইতিমধ্যেই অযোধ্যা চলে আসা সাধু-সন্ত ও পুণ্যার্থীদের সারাদিনের খাবারদাবারের ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সকাল থেকে রাত ভাণ্ডারাগুলিতে চলছে যজ্ঞ। চা-পুরী-খিচুড়ির গন্ধে মাতোয়ারা শিবিরগুলি। বেলায় বেলায় সেখানে পাত পড়ছে লাখো মানুষের। সব মিলিয়ে দিন যত এগিয়ে আসছে রঙিন হচ্ছে অযোধ্যা।