
গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 2 May 2025 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাকাশ অভিযানের কথা উঠলেই চোখে ভেসে ওঠে বিশাল রকেট, জ্বলজ্বলে স্ক্রিনে ছুটে চলা মহাকাশযান, আর মাথায় হেলমেট পরা নভশ্চরেরা। প্রযুক্তির শিখরে দাঁড়িয়ে থাকা এই অভিযানে যেন সবকিছুই নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত। কিন্তু একটা অতি সাধারণ, দৈনন্দিন প্রশ্ন কখনও ভেবেছেন—মহাকাশে মানুষ কীভাবে প্রস্রাব করে?পৃথিবীতে রেচনপ্রক্রিয়া যতটা স্বাভাবিক, মাধ্যাকর্ষণহীন মহাশূন্যে তা হয়ে ওঠে এক প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ।
১৯৬১ সাল। নাসা প্রথমবারের জন্য মানুষকে পাঠাতে চলেছে মহাকাশে। আমেরিকার প্রথম নভশ্চর অ্যালান শেপার্ড মহাকাশযানে বসে প্রস্তুত, অপেক্ষায় ঐতিহাসিক যাত্রার। কিন্তু উৎক্ষেপণের সময় পিছোচ্ছে আর তাঁর মূত্রাশয় ক্রমশ ভরে উঠছে। বিকল্প কিছু ছিল না। শেষমেশ সেই যানে বসেই নিজের স্পেসসুট ভিজিয়ে ফেলতে হয় তাঁকে।
মানবজাতির মহাকাশ ছোঁয়ার সেই প্রথম অধ্যায়টা, বলা যায়, শুরুই হয়েছিল ভেজা এক ইতিহাস দিয়ে। এই ঘটনার পরই নাসার বিজ্ঞানীরা বুঝলেন—খাবার যেমন প্রয়োজন, তেমনই শরীরের বর্জ্য ত্যাগ করাও জীবনের অপরিহার্য অংশ। শুরু হয় গবেষণা—কীভাবে মহাশূন্যে শৌচক্রিয়া সম্ভব?
শুরুতে পুরুষ নভশ্চরদের জন্য তৈরি হয় এক ধরনের কন্ডোমের মতো ডিভাইস, নাম দেওয়া হয় ‘কন্ডোম ক্যাথেটার’। এটি পুরুষাঙ্গে পরিয়ে রাখা হতো, সংযুক্ত থাকত একটি নল ও প্রস্রাব সংগ্রহের ব্যাগ। উদ্দেশ্য একটাই—ভাসমান তরল যেন কোনওভাবেই মহাকাশযানের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু সমস্যাও ছিল বিস্তর। সব পুরুষ নভশ্চরের শারীরিক গঠন একরকম নয়—ফলে অনেক সময় ডিভাইস ঠিকমতো বসত না, ফুটো হয়ে যেত, অস্বস্তিতে পড়তেন নভশ্চরেরা।
এই কারণে পরে তিনটি আলাদা আকার—ছোট, মাঝারি ও বড়—তৈরি করতে বাধ্য হয় নাসা। নাসার প্রাক্তন নভশ্চর রাস্টি শোইকার্ট হাস্যরস মিশিয়ে বলেছিলেন, "আমাদের যখন আকার বেছে নিতে বলা হতো, সবাই বড়টাকেই বেছে নিত!" তবে সময় বদলেছে। পুরনো সেই কন্ডোম ক্যাথেটার এখন অতীত। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এমন যন্ত্র, যা পুরুষ ও মহিলা—উভয় নভশ্চরই ব্যবহার করতে পারেন।