
চোখের মণি নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি বিজ্ঞানীদের।
শেষ আপডেট: 22 July 2024 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহুদিন ধরেই আমাদের বিশ্বাস ছিল, শ্বাস-প্রশ্বাস চলার সময় আমাদের চোখের মণির আয়তন পাল্টে যায়। যখন শ্বাস গ্রহণ করি, তখন ক্রমশ সেটি প্রসারিত হয়। যখন নিঃশ্বাস ছাড়ি, সেটি সঙ্কুচিত হয়ে আসে। কিন্তু সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানীর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ব্যাপারটা আদৌ তাই নয়।
সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল নিউরোসায়েন্স বিভাগের একদল বিজ্ঞানী এই নিয়ে নাগাড়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। সুইডেন তথা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অন্যতম প্রাচীন এই ইনস্টিটিউট আরও একটি কারণে বিখ্যাত। প্রতি বছর এই ইনস্টিটিউট থেকেই শারীরবিদ্যা ও চিকিৎসাবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা মণির সঙ্কোচন ও প্রসারণ নিয়ে দফায় দফায় পরীক্ষা চালিয়েছেন। একদল অংশগ্রহণকারীকে বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন অবস্থায় শ্বাস প্রশ্বাস নিইয়ে দেখা হয়েছে, চোখের মণির আয়তনে কী প্রভাব পড়ে। কখনও বিশ্রামরত অবস্থায়, কখনও কোনও কাজে ব্যস্ত রেখে দেখা হয়েছে, চোখের মণিতে কী পরিবর্তন ঘটে।
কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, শ্বাস গ্রহণের একেবারে শুরুতে মণির আয়তন সবচেয়ে ছোট থাকে। অথচ শ্বাস ছাড়ার একদম সর্বোচ্চ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় থাকে।
বস্তুত, অংশগ্রহণকারীরা বিশ্রামে থাকুন, বা কোনও কাজে, সর্বত্রই এই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন 'রেসপিরেটরি-পিউপিলারি ফেজ এফেক্ট' বা আরপিপিই। এটা থেকে যা বোঝা যাচ্ছে, শ্বাস নেওয়ার সময় চোখের পাতা সবচেয়ে ছোট থাকা এবং শ্বাস ছাড়ার সময় সবচেয়ে বড় কথা... এই ধারণাটা একেবারেই ভুল। বস্তুত, চোখের মণি ছোটবড় হওয়া একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। শ্বাস নেওয়া ও ত্যাগ করা, পুরো প্রক্রিয়াতে দুই ঘটনাই পর পর হতে পারে।
যথারীতি, এই 'আবিষ্কারে' শোরগোল পড়ে গিয়েছে বিজ্ঞানমহলে। দাবি উঠেছে, এই প্রতিবর্তক্রিয়ার পিছনে আদতে কী কী কারণ আছে, খতিয়ে দেখা হোক। যার জন্য আরও বিস্তারিত গবেষণা লাগবে। যেমন, কীভাবে এই আবিষ্কারের ফলে আমাদের মানসিক অভিব্যক্তিতে প্রভাব পড়ে? কীভাবে এর ফলে স্ট্রেস, বা মানসিক নানা স্বাস্থ্যের গতিপ্রকৃতি বোঝা যেতে পারে? প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।