জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে মহাকাশ থেকে হাইপারসনিক প্রযুক্তি বিজ্ঞানক্ষেত্রে নজিরবিহীন অগ্রগতির লক্ষ্যে এগোচ্ছে দেশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সুপারপাওয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 February 2026 10:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিজ্ঞান দিবস (National Science Day)। ১৯২৮ সালের এই দিনে স্যার সিভি রমন (C V Raman) আবিষ্কার করেছিলেন ‘রমন ইফেক্ট’ (Raman Effect)। তাঁর এই ঐতিহাসিক আবিষ্কারকে স্মরণ করেই ১৯৮৬ সালে কেন্দ্র সরকার দিনটিকে জাতীয় বিজ্ঞান দিবস ঘোষণা করে। লক্ষ্য বিজ্ঞানচেতনা ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণ প্রজন্মকে গবেষণায় উৎসাহিত করা।
শেষ কয়েকবছরে বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা ও নানা কাজে দারুণ সাফল্য পেয়েছে ভারত। মাইলফলক তৈরি হয়েছে একাধিক ক্ষেত্রে। তাই এই দিনটি বিশেষ। মহাকাশ, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার রূপরেখা সামনে এনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে ভারত।
গগনযান থেকে চন্দ্রযান
ভারতের মানববাহী মহাকাশ অভিযান গগনযান (Gaganyaan) মিশন ২০২৭ সালে কক্ষপথে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। তার আগে তিনটি মানববিহীন পরীক্ষামূলক উড়ান হবে। প্রথম মানববিহীন ‘জি১’ (G1) মিশনে থাকবে মানবসদৃশ রোবট ‘ব্যোমমিত্র’ (Vyommitra)। এর উৎক্ষেপণ নির্ধারিত ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে।
চন্দ্রযান-৪ (Chandrayaan-4) মিশনে দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে চাঁদের মাটি সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২৭-২৮। এর পাশাপাশি জাপানের জ্যাক্সার (JAXA) সঙ্গে যৌথভাবে চন্দ্রযান-৫ (Chandrayaan-5) মিশনের প্রস্তুতিও চলছে। এতে থাকবে ল্যান্ডার ও রোভার।
নিজস্ব স্পেস স্টেশন ও ভারী রকেট
২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন—ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন (Bharatiya Antariksha Station) গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। এর জন্য তৈরি হচ্ছে নেক্সট জেনারেশন লঞ্চ ভেহিকল (Next-Generation Launch Vehicle বা NGLV), যার নাম ‘সূর্য’ (Soorya)। এই ভারী রকেট ভবিষ্যতের চন্দ্র ও মহাকাশ মিশনে বড় ভূমিকা নেবে।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—২০৪০ সালের মধ্যে ভারতীয় নভোচারীকে চাঁদে পাঠানো।
প্রতিরক্ষা ও হাইপারসনিক প্রযুক্তি
অর্থনীতি ও কৌশলগত লক্ষ্য
ভারতের লক্ষ্য, বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজেদের অংশীদারি ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী নয়, নেতৃত্বদানকারী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ।
জাতীয় বিজ্ঞান দিবস তাই কেবল অতীতের গৌরব স্মরণ নয়। বরং ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। সিভি রমনের আবিষ্কারের আলোয় আজকের ভারত মহাকাশ, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে পা রাখতে চাইছে তা বলাই বাহুল্য।