
শেষ আপডেট: 17 April 2024 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইসরোর সাফল্য অব্যাহত। মুকুটে একাধিক পালক জুড়েছে ইতিমধ্যেই। আরও অনেক পথ চলা বাকি। চন্দ্রযান-৩ এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের পরে এবার চন্দ্রযান-৪ নিয়ে মাতামাতি চলছে। এর মধ্যেই গগনযানে চাপিয়ে মহাকাশে মানুষ নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় করছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ইসরো প্রধান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, চাঁদে মানুষ নিয়ে যাওয়াই অন্যতম লক্ষ্য। যতদিন না সে লক্ষ্য পূরণ হয়, ততদিন চাঁদে মহাকাশযান থুড়ি চন্দ্রযানই পাঠিয়ে যাবে ইসরো।
গত ২৩ অগস্ট চাঁদ ছুঁয়েছে ইসরো। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফল ভাবে অবতরণ করেছিল চন্দ্রযান-৩। আর সামগ্রিক ভাবে চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদের পৃষ্ঠে মহাকাশযান নামিয়ে কৃতিত্ব অর্জন করেছে ইসরো। তারপর ১৪ দিন ধরে চাঁদের বুকে একাধিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায় চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞান। টাস্ক শেষ করে চাঁদের পিঠে ঘুমিয়ে পড়েছে দুই 'সহোদর'।
ইসরো কর্তা বলছেন, চাঁদে যান পাঠানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়, সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল চাঁদে মানুষ পাঠানো। ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর মিশন সফল করতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৬ বছরের মধ্যে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কিনা এখনও স্পষ্ট করে জানাতে পারেনি ইসরো। এস সোমনাথ বলছেন, চাঁদে মানুষ নিয়ে যাওয়ার জন্য সেইমতো অত্যাধুনিক যান তৈরি করতে হবে। এটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ইসরোর কাছে অসম্ভব নয়। যতদিন না সেই চ্যালেঞ্জ পূরণ হচ্ছে, ততদিন চাঁদে চন্দ্রযান পাঠিয়েই পরীক্ষা নিরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, চন্দ্রযান-৪ মিশন খুব তাড়াতাড়ি আসবে। এটি হবে আরও বড়, আরও রাজকীয়। কারণ শুধু চাঁদের দক্ষিণ মেরুর মাটিতে নেমেই গ্যাঁট হয়ে বসে থাকবে না, চাঁদের মাটি সঙ্গে নিয়ে ফিরবে পৃথিবীতে। ‘মামারবাড়ি ভারী মজা’ হলেও এবার আর চন্দ্রযানকে চাঁদে রেখে দেবে না ইসরো। ফিরিয়ে আনবে পৃথিবীতে।
পাঁচ খানা ভারী যন্ত্র নিয়ে উৎক্ষেপণ খুব জটিল হবে বলেই দুই পর্যায়ে চন্দ্রযান-৪ এর উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরো। প্রোপালশন মডিউল, ডিসেন্ডার মডিউল ও অ্যাসেন্ডার মডিউল নিয়ে উড়ে যাবে LVM3 রকেট। এই উৎক্ষেপণ চন্দ্রযান-৩ অভিযানের মতোই হবে। বাকি দুটি মডিউলকে নিয়ে উড়বে ইসরোর আধুনিক PSLV রকেট। এতে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠানো হবে ট্রান্সফার মডিউল এবং রি-এন্ট্রি মডিউলকে। তবে কোনটির উৎক্ষেপণ আগে এবং কোনটির পরে, তা এখনও খোলসা করেনি ইসরো।