গবেষকদল তৈরি করেছেন এমন এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, যা রোগীর দেহের ভিতর থেকেই নিরাপদে ও কার্যকরভাবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 12 October 2025 16:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী দিশা দেখাল আইআইএসইআর কলকাতা (IISER Kolkata)। ওই প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক তৈরি করেছেন এমন এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া, যা রোগীর দেহের ভিতর থেকেই নিরাপদে ও কার্যকরভাবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। সংস্থার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একই সঙ্গে তাঁরা এমন একটি 'ডিটেকশন সিস্টেম'ও তৈরি করছেন, যা চিকিৎসার অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
আইআইএসইআর কলকাতা জানিয়েছে, এই দু'টি উদ্ভাবন একসঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসায় থেরানোস্টিকস (theranostics)— অর্থাৎ চিকিৎসা ও নির্ণয়ে, একসঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে।
‘ReSET’ প্রোজেক্ট: ক্যানসারের মাইক্রো এনভায়রনমেন্টে বিপ্লব
প্রোজেক্টটির নাম ReSET (Reprogramming the Suppressive Environment of Tumour Microenvironment)। এর লক্ষ্য ক্যানসার থেরাপির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি সমাধান করা।
আইআইএসইআর-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, “ক্যানসার প্রায়ই শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দমন করে রাখে এক বিশেষ ধরনের কোষের সাহায্যে, যাদের বলে T regulatory cells (Tregs)। এর ফলে ইমিউনোথেরাপি বা কেমোথেরাপির মতো প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলি কম কার্যকর হয়।”
এই সমস্যার সমাধানে গবেষকরা বেছে নিয়েছেন এক সাহসী ও অভিনব পথ। প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া বা উপকারী জীবাণুদের জিনগতভাবে প্রকৌশল করে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা ক্যানসার কোষ চিনে তাদের দমনমূলক কার্যকলাপ ভেঙে দিতে পারে। ফলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
সহজ কথায়, গবেষক দলটি বন্ধুসুলভ জীবাণুগুলিকে এমনভাবে রূপান্তরিত করছেন, যাতে তারা শরীরের ভেতর থেকেই লক্ষ্যভেদী ও জীবন্ত ওষুধের মতো কাজ করে - যা ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসাকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে পারে।
গবেষণাটি শুধু বৈজ্ঞানিকভাবে নয়, সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও প্রাসঙ্গিক রাখতে ছাত্ররা সংলাপ চালিয়েছেন অনকোলজিস্ট, সার্জন, ক্যানসার সারভাইভার, ও এনজিও-র সঙ্গে। তারা স্কুলে আউটরিচ প্রোগ্রাম, ক্যানসার সচেতনতা অভিযান, হেয়ার ডোনর সংগঠন ও রোগী সহায়ক গ্রুপের সঙ্গেও কাজ করেছে।
এই সমস্ত যোগাযোগ তাদের গবেষণাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে, নিশ্চিত করেছে যে এই থেরাপিটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই তৈরি হচ্ছে।
আইআইএসইআর কলকাতার দলটির দাবি, এই গবেষণা শুধু ল্যাবরেটরির প্রোটোটাইপ নয়, বরং ভারতের তরুণ গবেষকদের বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার প্রমাণ।
তাঁদের বক্তব্য, “আমরা যখন Tregs pathway-কে লক্ষ্য করে ইঞ্জিনিয়ার্ড ব্যাকটেরিয়া তৈরি করছি, তখন আমরা এমন এক নতুন শ্রেণির ক্যানসার থেরাপির দিকেই এগোচ্ছি, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসার ধরনটাই বদলে দিতে পারে।”
১১ সদস্যের এই স্নাতক দলটি এবার প্রতিনিধিত্ব করবে IISER Kolkata এবং ভারতকে - ইন্টারন্যাশনাল জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারড মেশিন (iGEM) Grand Jamboree 2025-এ, যা অক্টোবরেই প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।