Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
IPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নীলনদের কাছে বালির নিচে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া নদী, পিরামিড রহস্যের সমাধান মিলবে?

'কমিউনিকেশন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, পুরাকালে নীলনদের মূল প্রবাহের পাশে আরও একটি ৬৪ কিলোমিটার লম্বা শাখা বয়ে যেত ভূমধ্যসাগরের দিকে। এই নদীতেই লুকিয়ে আছে অতিকায় পিরামিড বানানোর রহস্য! আজ সেই নদীখাত মরুপ্রান্তরের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে।

নীলনদের কাছে বালির নিচে লুকিয়ে আছে হারিয়ে যাওয়া নদী, পিরামিড রহস্যের সমাধান মিলবে?

পিরামিড বানানোর রহস্য লুকিয়ে আছে এক হারিয়ে যাওয়া নদীখাতের ওপর।

শেষ আপডেট: 20 May 2024 20:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাড়ে চার হাজার বছর পেরিয়ে গিয়েছে। তবু এই একুশ শতকে, কম্পিউটার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে এসেও মিশরের পিরামিড নিয়ে মানুষের আগ্রহ একফোঁটাও কমেনি। সেই সুপ্রাচীনকালে, মিশরের মত মরুপ্রায় অঞ্চলে কোনও যান্ত্রিক প্রযুক্তি ছাড়াই মানুষ কীভাবে অত বড় পিরামিড বানাত, আজও প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে সে এক রহস্য। রয়েছে নানা তত্ত্ব, দাবি, গবেষণা। বিজ্ঞানীদের অনেকে মনে করেন, আজ নীলনদ যেখান দিয়ে বয়ে যায়, পুরাকালে তার প্রবাহ কিঞ্চিৎ আলাদা ছিল। এই মনে হওয়ার প্রমাণ খুঁজতে বিচ্ছিন্ন কিছু শিলা বা মাটির অংশের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে। কিন্তু এবার 'কমিউনিকেশন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট' পত্রিকায় প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, পুরাকালে নীলনদের মূল প্রবাহের পাশে আরও একটি ৬৪ কিলোমিটার লম্বা শাখা বয়ে যেত ভূমধ্যসাগরের দিকে। আজ সেই নদীখাত মরুপ্রান্তরের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছে। 

নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পেস অ্যান্ড ড্রোন রিমোট সেন্সিং ল্যাবের অধ্যাপক, সমীক্ষার অন্যতম গবেষক এমান গোনেইম সংবাদসংস্থা সিএনএনকে বলেন, 'নীলনদের আগেকার এই শাখাগুলোকে খুঁজে বের করতে আগেও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো মূলত ছোটখাটো প্রত্নক্ষেত্র থেকে মাটি বা শিলার অবশেষ পরীক্ষা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যার ফলে বিচ্ছিন্ন কিছু অংশকেই চিহ্নিত করা গিয়েছে। আমাদের এই সমীক্ষা প্রথমবারের জন্য নীলনদের এই হারিয়ে যাওয়া নদীখাতটিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।' 

গোনেইম ও তাঁর সঙ্গী গবেষকরা এই খাতের নাম দিয়েছেন 'আহরামাৎ'। আরবিতে যার অর্থ, 'পিরামিড'। 

সমীক্ষার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, হারিয়ে যাওয়া নীলের এই নদীখাতটি প্রায় আধ কিলোমিটার চওড়া ও অন্তত বিরাশি ফুট গভীর ছিল। যা প্রায় আজকের নীলনদের মতোই। নদীখাতটি ৩১ টি পিরামিডের অত্যন্ত নিকটেই প্রবাহিত ছিল। গোনেইম বলছেন, 'এই বিশাল গভীরতা ও প্রস্থ দেখে আমাদের মনে হচ্ছে, এককালে এই নদীপথ ধরে অত্যন্ত উন্নত জলপথ পরিবহন ব্যবস্থা চালু ছিল। আমাদের সমীক্ষায় এও ধরা পড়েছে, পিরামিডগুলোর অনেকক'টারই সামনে উঁচু করা হাঁটার পথ ছিল, যা প্রায় আহমারাৎ নদীখাতের সমান্তরালেই টানা ছিল।'

সত্যি বলতে, আকাশ থেকে তোলা সাধারণ ছবি দেখলে এই নদীখাত প্রায় কিছুই বোঝা যাবে না। সেইজন্য গোনেইম ও তাঁর সঙ্গীরা রাডার ও উপগ্রহচিত্রের সাহায্যে গোটা এলাকায় তল্লাশি চালান। মিশরেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা গোনেইমের। ছোট থেকেই তাঁর পিরামিড নিয়ে আগ্রহ ছিল। প্রশ্ন জাগত, পিরামিডগুলো কেন ঠিক এই জায়গাতেই তৈরি হল? মাটি ভেদ করা রাডার তথ্য এবং তড়িৎচুম্বকীয় টোমোগ্রাফিক সমীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, মাটির তলায় লুকিয়ে আছে আসলে এক শুকিয়ে যাওয়া প্রাচীন নদীখাত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই নদীখাত দেখে এখন তাঁদের মনে হচ্ছে, সম্ভবত নীলনদ অববাহিকায় আহমারাতের দুই পাশে মাটির নিচে অসংখ্য মিশরীয় মন্দির চাপা পড়ে রয়েছে।

ঠিক কী কারণে এই নদীখাত শুকিয়ে গেল? এখনও জানেন না বিজ্ঞানীরা। সম্ভবত একটা সময় খরা বা অনাবৃষ্টির ফলে সাহারা থেকে বালির ঝড়ে বালি চাপা পড়ে যায় এই খাতে। ক্রমাগত বালির চাপে অগভীর হতে থাকে আহমারাৎ। যার ফলেই একটা সময় শুকিয়ে যায় এই খাত। 

প্যারিসের ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের বিজ্ঞানী নিক মেরিনার সিএনএনকে বলেছেন, পিরামিডের যুগে মিশরের মানচিত্র অনেকটাই আলাদা ছিল। 'এই যে ভূতাত্ত্বিক বদলটা এল, এই রহস্যের অনেকটাই সমাধান এই সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া ছবিগুলোকে পাশাপাশি বসালে আমরা দেখতে পাবো, প্রাচীনকালে পিরামিডের যুগে নীলনদ অববাহিকা ঠিক কেমন ছিল। কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে সমঝোতা করে প্রাচীন মিশরীয়রা নদীপথে নির্মাণসামগ্রী চালিত করত, সেটাও এই সমীক্ষায় অনেকটাই ধরা পড়েছে।'


```