
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 December 2024 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'সূর্যকে ছুঁতে' চলেছে নাসার মহাকাশযান। ঠিক স্পর্শ নয়, সূর্যের সবথেকে কাছাকাছি পৌঁছতে চলেছে আমেরিকার এই মহাকাশযান। যদি এই অসম্ভব সম্ভব হয়ে ওঠে, তাহলে অবশেষে জানা যাবে সুয্যিমামা সারাদিন কী কাজ করেন, কীভাবেই বা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মহাকাশে আলো জ্বেলে রাখেন। সূর্যদেবতার এই গোপন কম্মটি জানা যেতে পারে আগামী শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ।
মঙ্গলবার বিবিসি এই সংবাদ দিয়ে বলেছে, নাসার মহাকাশযান ইতিহাসের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে। যা সূর্যের সবথেকে কাছাকাছি পৌঁছাতে চলেছে জিএমটি হিসেবে শনিবার সকাল ৫টায়। এই সূর্য অভিযানের নাম পার্কার সোলার প্রোব। মহাকাশযানটি ওইদিন, ওই সময় নাগাদ (যদি সফল হয়) সূর্যের বহিঃঅংশের বলয়ে প্রবেশ করবে। ভয়ঙ্কর উত্তাপ ও চরম সৌর তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ এলাকায় ঢুকবে পার্কার।
পার্কার সূর্য অভিযান শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। মহাকাশযানটি সৌর জগতের দিকে রওনা দেয়। কিন্তু, বেশ কিছুদিন ধরে তার সঙ্গে নাসার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এখন নাসার বিজ্ঞানীরা অপেক্ষা করছেন তার সঙ্কেত পাঠানোর জন্য। যদি মহাকাশযানটি বেঁচে থাকে, তাহলে শনিবার ভারতীয় সময় সাড়ে ১০টা নাগাদ সঙ্কেত পাঠাতে পারে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই পরীক্ষা সূর্যের কাজকম্ম সম্পর্কে জানতে আরও সাহায্য করবে।
নাসার বিজ্ঞানী ডঃ নিকোলা ফক্স বিবিসি নিউজকে জানান, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সূর্য নিয়ে নানা দেশে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। কিন্তু, সেই জায়গায় না গিয়ে সেই জায়গা সম্পর্কে ধারণা করা খুবই কঠিন। তাই আমরা সূর্য সম্পর্কেও ততটা জ্ঞানপ্রাপ্ত হবো না, যতক্ষণ না তার কাছাকাছি যেতে পারছি। তিনি আরও জানান, পার্কার ইতিমধ্যেই ২১ বার সূর্যের ধারেকাছে ঘুরেছে। ধীরে ধীরে তা আরও কাছাকাছি এগচ্ছে। তার মধ্যে ক্রিসমাসের আগের দিন রেকর্ড পরিমাণ কাছাকাছি এগিয়ে গিয়েছে। এই যান সূর্যের বহিঃপ্রান্তের সবথেকে কাছাকাছি ৬২ লক্ষ কিমি দূর পর্যন্ত পৌঁছানোর আশায় বুক বেঁধেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
নিকোলা ফক্স জানিয়েছেন, আপাতত এখন এই মহাকাশযান ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল দূরে অবস্থান করছে। যদি আমরা সূর্য এবং পৃথিবীকে এক মিটার দূরত্বে রেখে ভাবি, তাহলে পার্কার সোলার প্রোব এখন সূর্য থেকে ৫ সেন্টিমিটার দূরে পৌঁছবে। অর্থাৎ সূর্যের সবথেকে কাছে পৌঁছে যাবে। যা আগে কখনও সম্ভব হয়নি। মহাকাশযানটি ১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তাপ সহ্য করতে সক্ষম। এবং সৌর বিকিরণ বা তেজষ্ক্রিয়তায় নষ্ট হতে পারে মহাকাশযানের ব্যৈদুতিন যন্ত্রপাতি।
মহাকাশযানটির বহির্ভাগে রয়েছে ১১.৫ সিএম বা সাড়ে ৪ ইঞ্চি পুরু কার্বন কম্পোসাইট কবচ। নাসা সূত্রে জানা গিয়েছে, এটি অন্যান্য যে কোনও মানুষের তৈরি মহাকাশযানের তুলনায় দ্রুতগামী। ঘণ্টায় প্রায় ৪৩০,০০০ মাইল গতি। অর্থাৎ লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক পৌঁছতে সময় নেবে ৩০ সেকেন্ডের কম। ওয়েলসের ফিফথ স্টার ল্যাবস-এর বিজ্ঞানী জেনিফার মিলার্ড জানান, সূর্যপৃষ্ঠ আনুমানিক ৬,০০০ ডিগ্রি গরম। তবে এর করোনা বা বাইরের বলয় কত গরম তা এখনও বোঝা যায়নি। গ্রহণের সময়েই একমাত্র সূর্যের করোনা দেখা যায়। নিকোলা ফক্স জানান, পার্কার যেইমাত্র সঙ্কেত পাঠাবে তখনই আমরা তাকে একটি সবুজ রঙের হার্টের চিহ্ন টেক্সট করব। তাতে সে বুঝতে পারবে অভিযান সফল হয়েছে। এখন ক্রিসমাসের রাত থেকে ঠায় জেগে বসে রয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা, কখন সূর্যতপার সঙ্কেত পৃথিবীর মাটিতে এসে পৌঁছায়!