দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম দুই কোয়ার্টার ফাইনাল শেষ। শেষ চারে ইতিমধ্যেই পা দিয়েছে ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হওয়ার লড়াইয়ে শনিবার নামছে রাশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সুইডেন ও ইংল্যান্ড। অর্থাৎ উরুগুয়ে, ব্রাজিলের হারের সঙ্গেই বিশ্বকাপ থেকে শেষ হয়ে গিয়েছে লাতিন আমেরিকার চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ কার্যত পরিণত হয়েছে ইউরো কাপে।
কিন্তু লাতিন আমেরিকার এই দল গুলো কেন বারবার পিছিয়ে পড়ছে সেরার লড়াইয়ে? কেন তাদের মাত দিচ্ছে ইউরোপ?
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন আমেরিকার দলগুলির পিছিয়ে পড়ার কারণ একটা নয়, বেশ কয়েকটি। ইউরোপে যে ধরণের প্রফেশনাল লিগ চলে তার সিকি ভাগও দেখা যায় না লাতিন আমেরিকায়। আগে যেখানে সাও পাওলো, বোকা জুনিয়ার্সের মত ক্লাব থেকেই পেলে, মারাদোনার মতো প্রতিভার জন্ম হয়েছে সেখানে হালফিলে নেইমার ছাড়া আর কাওকে দেখা যায়নি উঠে আসতে। অন্যদিকে ই.পি.এল, লা লিগা, বুন্দেশলিগা, সিরি এ’র মতো লিগ গুলো থেকে একের পর এক তারকা উঠে আসছে বিশ্ব ফুটবলে। খেলোয়াড় তৈরি করে আনার এই পদ্ধতিতেই লাতিন আমেরিকাকে টেক্কা দিচ্ছে ইউরোপ।
লাতিন আমেরিকার ফুটবল শৈলী মানেই শিল্প। কোমরের দোলায় প্রতিপক্ষকে ছিটকে ফেলা, নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাস খেলে বিপক্ষের বক্সে এগিয়ে যাওয়া, ব্যক্তিগত প্রতিভার বিচ্ছুরনে দলকে জেতানো। অন্যদিকে ইউরোপের খেলার ঘরানা মানেই হলো পাওয়ার ফুটবল। কখনও বিপক্ষ বক্সে লম্বা বল তুলে খেলা, কখনও বা দ্রুত গতির কাউন্টার নির্ভর খেলার উপরেই নির্ভর করে থাকে ইউরোপের দলগুলি। কিন্তু বর্তমানে ইউরোপের দেশগুলিও পাসিং ফুটবল রপ্ত করে নিয়েছে। গতির সঙ্গে পাসিং ফুটবলের মিশ্রনে নিজেদের তৈরি করছে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানির মতো দলগুলি। স্পেন তো লাতিন আমেরিকার থেকেও ভালো পাসিং ফুটবল খেলে আজকাল। আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। পিছিয়ে পড়ছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, উরুগুয়ের মতো দলগুলি।
শেষ কয়েকটি বিশ্বকাপ লক্ষ্য করলেই স্পষ্ট হবে সেই ছবি। ২০০৬ সালে জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও ইতালি উঠেছিল সেমি ফাইনালে। ২০১০ সালে উরুগুয়ে শেষ চারে গেলেও ইউরোপের নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে ব্রাজিল শেষ চারে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে লজ্জার হারের সম্মুখীন হয়েছিল। অন্যদিকে মেসির একক প্রতিভার উপর নির্ভর করে আর্জেন্টিনা ফাইনালে পৌঁছলেও সেই জার্মানির টিম গেমের কাছেই আটকে যেতে হয়েছিল তাদের। চলতি বিশ্বকাপেও ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়েকে। ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে বেলজিয়ামের কাছে হেরে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই ইউরোপীয় প্রাধান্য।
এখানেই উঠছে প্রশ্ন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ের বেশিরভাগ খেলোয়াড় কিন্তু খেলেন ইউরোপের বিভিন্ন লিগে। অর্থাৎ ইউরোপীয় ঘরানার সঙ্গে তাঁরা পরিচিত। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও দেশের হয়ে খেলার সময় মাঠে দেখা যায় না সেই খেলা। বাকি খেলোয়াড়দের কাছে কি সাপোর্ট পান না তাঁরা। নাকি নিজেদের ঘরানা থেকে এখনও বেড়িয়ে আসতে পারেনি এই দলগুলো। তাহলে কি বারবার ইউরোপীয় দলগুলোর কাছেই হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হবে লাতিন আমেরিকার। পেলে, মারাদোনার শিল্প হেরে যাবে জার্মান, বেলজিয়াম, ফ্রান্সের গতির কাছে?