দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান বনাম মরক্কো ম্যাচে গ্যালারিতে দেখা গিয়েছিল এক ব্যানার। তাতে লেখা, 'স্টেডিয়ামে ইরানের মহিলারা এসেও যাতে খেলা দেখতে পারেন সে ব্যাপারে সমর্থন জানান।' ব্যানারটি নিয়ে এসেছিলেন ইরানের মহিলাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মারিয়াম কাশকাই সোজায়ি। কিন্তু পরবর্তী ইরান-স্পেন ম্যাচে তাঁকে ঢুকতেই দেওয়া হলো না মাঠে।
মারিয়ামের বক্তব্য ইরানের মহিলাদের কোনও ধরণের খেলা মাঠে বসে দেখার অনুমতি নেই। এমনকী বোরখা পরেও তাঁরা মাঠে আসতে পারেন না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ইরান-মরক্কো ম্যাচে ওই ব্যানার নিয়ে ঢুকেছিলেন। কিন্তু স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাঠের বাইরেই নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকান।
এই ব্যানার নিয়ে ঢোকার অনুমতি তাঁর আছে সেই নথি দেখানোর পরেও প্রায় দু'ঘণ্টা তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়। তাঁর প্রশ্ন, তবে কি মহিলাদের সমানাধিকারের লড়াইকে সমর্থন করে না রাশিয়া সরকার বা ফিফা?
ফিফার তরফে জানানো হয়েছে, মহিলাদের মাঠে বসে খেলা দেখার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা ইরান সরকার করেছে তা তাঁরা কোনওভাবেই সমর্থন করেন না। ওই মহিলাকে আগের ম্যাচেই তাঁরা মাঠে ঢোকার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও কেন এই ধরণের ঘটনা ঘটল সেই ব্যাপারে খোঁজ নেবেন তাঁরা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মারিয়াম ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফ্যানটিনোর কাছে আবেদন করেছিলেন ইরান সরকারের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কথা বলার জন্য। মে মাসে ইনফ্যানটিনো জানান যে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তাঁকে বলেছেন যে তাঁরা মহিলাদের উপর নিষেধাজ্ঞা তোলার ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা করছেন। এপ্রিল মাসে ইরানের তেহরানে একটা ম্যাচে ইরানের মহিলারা নকল দাড়ি ও উইগ পরে মাঠে খেলা দেখতে গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন এর বিরুদ্ধে।
ইরানের অধিনায়ক মাসুদ সোজায়ি বলেছেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে এই ব্যাপারে কথা বলা উচিত হবে না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে। গোঁড়া ইসলামিক দেশ ইরানের এই রকম নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বিশ্বকাপ কতটা সক্রিয় ভূমিকা নেবে। যেখানে মুছে যায় সব বিভেদ, সেখানে মহিলাদের সমান অধিকারের দাবি কি মান্যতা পাবে না?