
করুণ নায়ার
শেষ আপডেট: 17 March 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন আইপিএলের মঞ্চে লেখা হতে চলেছে কামব্যাকের নয়া আখ্যান। যার নায়কের নাম করুণ নায়ার।
পরাজিত হয়েছেন। ছন্দ হারিয়েছেন। সাফল্যের শীর্ষে উঠেও স্রেফ মুছে গিয়েছেন। একদা ক্রিকেটের আড্ডায়-চর্চায় থাকা ব্যাটসম্যান সবকিছু থেকে উবে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটও ফিরিয়ে নেয় মুখ। রাজস্থানে জন্ম, বেড়ে ওঠা। খেলতেন কর্ণাটকের হয়ে। অথচ অফ ফর্মের জেরে তাদের হয়ে রঞ্জিতে নামার সুযোগ জোটেনি। জাতীয় দলের দরজা তো আগেই বন্ধ হয়েছিল। রঞ্জির খিড়কি পর্যন্ত বুজে যাওয়ার জেরে চোখ পেতেছিলেন আইপিএলের দিকে। কিন্তু সেখানেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এক বছর, দু’বছর নয়। একটানা পাঁচ বছর আইপিএলের চৌহদ্দিতে ঠাঁই জোটেনি।
তারপরই কামব্যাক। ঘরোয়া ক্রিকেটের সরু গলিকেই ফিরে আসার রাজপথে পরিণত করেছেন করুণ নায়ার। কর্ণাটক নয়, মাঠে নেমেছেন বিদর্ভের হয়ে। এই মরশুমে রঞ্জিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। হাঁকিয়েছেন ন’খানা শতরান। যার জেরে সুযোগ মিলেছে আইপিএলে। করুণকে নিলামে তুলে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।
পরের লক্ষ্য টেস্টে কামব্যাক। তার জন্য ড্রেস রিহার্সাল হিসেবে ভারতীয় এ-দলের হয়ে মাঠে নামতে উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন নায়ার। সেখানে নজরকাড়া পারফরম্যান্স মানে জাতীয় দলের সুযোগ ফের খুলে যাওয়া। তাই ধাপে ধাপে নিজের লক্ষ্যের পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
পাঁচ বছর। লম্বা সময়। কী বদলেছে এতদিনে? হাল্কা হেসে করুণের জবাব, ‘খুব বেশি কিছু না। আমার আগের চেয়ে কিছুটা বয়স বেড়েছে। আর দলের নাম এখন দিল্লি ক্যাপিটালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস নয়।‘
বছর তেত্রিশের করুণ নায়ারের অভিষেক ছিল ধূমকেতুর মতো। আচমকাই দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের মুখে মুখে ফিরতে থাকে তাঁর নাম। তিন নম্বর টেস্টে ত্রিশতরান। ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম। এরপর যেমন হঠাৎ করে এসেছিলেন, সেভাবেই মুছে যান। টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে টিম ইন্ডিয়া যেভাবে নাকানিচোবানি খাচ্ছে, তাতে নড়বড়ে মিডল অর্ডারকে অক্সিজেন জোগাতে করুণ শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আর এক্ষেত্রে আইপিএলের চেয়ে ভাল প্লাটফর্ম আর কিছুই হতে পারে না।
করুণ নিজেও সেকথা জানেন। জানেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ফিরে আসার আনন্দ ঠিক কীরকম? বলেন, ‘বহুদিন ধরে ক্রিকেট খেলছি। আমি উত্থান-পতন দুই-ই দেখেছি। আসল কথা হচ্ছে, কীভাবে তুমি বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারো। অবশ্যই আমি দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। কিন্তু সেই সময় আমায় নিজেকে উদ্বুদ্ধ করার, শক্তি সঞ্চয় করার, সব সময় ক্ষুধার্ত থাকার শিক্ষা দিয়েছে।‘
আপাতত তিনি উতরাই নয়, চড়াইয়ে রয়েছেন। শীর্ষে থাকার কোনও ভয় কাজ করে না? একদিন এই শীর্ষ থেকেই তো বিস্মৃতির আঁধারে তলিয়ে গেছিলেন! প্রশ্নের জবাবে মৃদু স্বরে নয়, করুণ সপাটে বলেন, ‘মোটেও না। শীর্ষে থাকার সময়টুকু উপভোগ করাই উচিত। এই উপভোগের জন্যই আমাদের এত পরিশ্রম, এত ত্যাগ স্বীকার।‘