
আইপিএলে এবারই আমদাবাদ ও ইডেনের ম্যাচের খন্ডচিত্র।
শেষ আপডেট: 20 May 2024 21:26
চলতি আইপিএলের শেষদিকে বড় প্রশ্ন, বৃষ্টিতে বাকি ম্যাচ ধুয়ে যাবে না তো? কারণ শুরুর দিকে খেলা নিয়ে সমস্যা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বড় চিন্তা হয়ে গিয়েছে বৃষ্টি।
ভারতে প্রায় সব রাজ্যেই বর্ষা আসতে শুরু করেছে। গুয়াহাটিতে বৃষ্টি হয়েছে, আমদাবাদে এবং চেন্নাইতেও বৃষ্টি এসে খেলায় থাবা বসিয়েছে। কোনও ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলে দুটি দলের মধ্যে এক পয়েন্ট করে ভাগ হয়ে গিয়েছে।
গতবারও দেখা গিয়েছে আইপিএলের ফাইনাল প্রথমদিন বৃষ্টিতে বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে দ্বিতীয়দিন খেলা হতে চেন্নাই চ্যাম্পিয়ন হয়ে গিয়েছে। এবারও কি তাই হবে? আমদাবাদে ইতিমধ্যেই বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ বাতিল ঘোষিত হয়েছে। এবার আইপিএলের প্লে অফ কোয়ালিফায়ার এবং এলিমিনেটরের দুটি ম্যাচ রয়েছে মঙ্গলবার ও বুধবার যথাক্রমে। ২১ মে খেলবে কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং হায়দরাবাদ। যে দল জিতবে সেই দলই ফাইনালে চলে যাবে। যে হারবে সেই দল খেলবে এলিমিনেটরে। কিন্তু বৃষ্টিতে খেলা ধুয়ে গেলে যে দল গ্রুপে বেশি পয়েন্ট পেয়েছিল, সেই দল ফাইনালে চলে যাবে। আর অন্য দলের কপাল পুড়বে।
আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে বৃষ্টি দলে সমস্যা কোথায়? এই নিয়ে ক্রিকেটমহলে জোর আলোচনা হচ্ছে। ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই অত্যাধুনিক মাঠের সবকিছুই দারুণ, কিন্তু প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো বৃষ্টি এলেই এর কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ে। সমস্যা কোথায় এই মাঠের?
ইডেনের যিনি পিচ কিউরেটার সেই অভিজ্ঞ সুজন মুখোপাধ্যায় সোমবার সন্ধ্যায় দ্য ওয়ালকে জানালেন, ‘‘আমদাবাদে সুপার সপার ভাল নয়। আর জল নিকাশি ব্যবস্থাও উন্নত নয়। সেই কারণে এক ঘণ্টার বর্ষণে মাঠে জল থইথই করে। সারা মাঠ ঢাকারও ব্যবস্থা নেই আমাদের মতো। তাই এত সমস্যা ওদের।’’
কলকাতার গর্বের ইডেন গার্ডেন্স ঠিক এখানেই এগিয়ে রয়েছে। ইডেনে চারটি আধুনিকমানের সুপার-সপার নিয়ে আসা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। সেটি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছিলেন সিএবি-র প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের আমলেই ইডেনের জল নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোও হয়। তিনি পুরো ড্রেনেজ সিস্টেমকে বদলে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেটি ২০১৫ সালেই। তারপর নয় বছর ইডেনের গ্যালারি সংস্কার হলেও মাঠে আর হাত দিতে হয়নি।
তারওপর ইডেনের মাঠ কর্মীরা সারা ভারতের সেরা। সুজনের নেতৃত্বে মাঠকর্মীরা সজাগ থাকেন সবসময়। বৃষ্টি হলেই সারা মাঠ দ্রুততার সঙ্গে ঢেকে ফেলার ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই কলকাতা ও মুম্বই ম্যাচে অঝোরধারায় বৃষ্টি হলেও দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৌনে নয়টায় ম্যাচ শুরু হয়েছে পুরো ২০ ওভার খেলা করা গিয়েছে।
আমদাবাদ স্টেডিয়ামের সবকিছুই উন্নত, কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলে কী করে খেলা শুরু করা যায়, তারজন্য কোনও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়নি। বরং বোর্ডের পিচ কমিটির চেয়ারম্যান আগরতলার আশিস ভৌমিক অস্থায়ীভাবে এই মাঠের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনিও দ্য ওয়ালকে জানিয়েছেন, ‘‘আচমকা দায়িত্বে এসে এই ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব নয়। কারণ সুপার-সপার কেনার দায়িত্ব আয়োজকদের, স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থার। আমি বড়জোর পরামর্শ দিতে পারি। আর জল নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি হবে তখনই হবে যখন মাঠের চারপাশে জল বেরনোর জায়গা থাকতে হবে। সেটা নিয়ে আমদাবাদ ক্রিকেট সংস্থার কর্তারা ভাবনাচিন্তা করতে শুরু করেছেন।’’
ইডেনে সেদিক থেকে বাকি মাঠের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু এই মাঠেই প্লে অফের কোনও খেলা দেয়নি জয় শাহর বোর্ড। সিএবি থেকে আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। তিনিও এই নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন বলে কোনও খবর নেই!