1.png)
টুটু বসু
শেষ আপডেট: 28 April 2025 17:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাবে সুখের দিন চলছে। আইএসএল ও লিগ শিল্ড জেতা হয়ে গিয়েছে চলতি মরশুমে। দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েও সুপার কাপ ২০২৫-এর সেমিফাইনালে উঠেছে দল। এর মধ্যেই ক্লাবে শোনা গেল বিষাদের সুর।
ক্লাব সচিব ও কার্যকরী সমিতির সদস্যবৃন্দকে চিঠি পাঠিয়ে মোহনবাগান (Mohonbagan) ক্লাবের সভাপতির (President) পদ থেকে ইস্তফা (Resignation) দিলেন স্বপ্ননসাধন বসু (Swapan Sadhan Basu) (টুটু বোস)। এদিকে সামনেই রয়েছে মোহনবাগান ক্লাবের নির্বাচন (Election)। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম রায়ের নেতৃত্বে নির্বাচনী বোর্ড ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে। তার আগেই এল এই চিঠি (Letter)। চিঠিতে মেরিনার্সের ভরসার অন্যতম মুখ টুটু বসু (Tutu Basu) লিখেছেন, ‘সভাপতির চেয়ার থেকে কোনও এক পক্ষের প্রচার করা উচিত নয়। চেয়ার কিংবা পদের অপব্যবহার কখনও কিছু আমি করিনি, এবারও করব না।’
ধীরেন বসুদের জমানা শেষ হওয়ার পর থেকেই সেই গত শতাব্দীর নয়ের দশক থেকে বাগান জনতার নয়ণের মণি টুটু বসু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রয়াত অঞ্জন মিত্র। নতুন মরশুমে দল গড়ার ক্ষেত্রে তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকত বাগান জনতা। তাঁর আমলেই মোহনবাগানে বিদেশি ফুটবলার আনার প্রচলন শুরু হয় ওকেরি চিমার হাত ধরে।
দীর্ঘদিন ধরে এই শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত টুটু বসু। তাঁর পুত্র সৃঞ্জয় বসুও বহু বছর ধরে মোহনবাগানকে একাধিক সাফল্য এনে দিয়েছেন। যখনই ক্লাব সমস্যায় পড়েছে, তখনই এগিয়ে এসেছে বাবা-ছেলের জুটি। নিজেদের টাকায় চালিয়েছেন ক্লাব। তারকা প্লেয়ার আনতে দেদার খরচ করেছেন। টুটু বসুর উদ্যোগেই আরপিজি গ্রুপের সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল মোহনবাগান।
সোমবার দুপুরে এক বিবৃতিতে হঠাৎই ক্লাবের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন টুটু বসু। ইস্তফাপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা সবাই জানি যে, মোহনবাগান ক্লাবে নির্বাচন আসন্ন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম রানার নেতৃত্বে নির্বাচনী বোর্ড ইতিমধ্যে গঠন হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনের আগে আমি একটা সিদ্ধান্ত নিতে চাই। আর সেই কারণেই আপনাদের উদ্দেশে আমার এই চিঠি লেখা। বহু বছর ধরে আমি মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে। মোহনবাগান ক্লাব আমার কাছে মাতৃসম। মোহনবাগান চিরকাল আমার হৃদয়ের বাঁদিকে ছিল, আছে, থাকবে। আমি এত দিন একনিষ্ঠ সেবায়েতের মতো ক্লাবের নিত্যপুজো করেছি। নিজের সাধ্যমতো, মোহনবাগানের সেবা-যত্ন করার চেষ্টা করেছি। কতটা করতে পেরেছি, সবচেয়ে ভাল জানেন আমার প্রিয় সদস্য-সমর্থকরা। যাঁদের কাছে আমি টুটুদা কিংবা শুধুই টুটু।’
তবে টুটু বসুর পদত্যাগ সম্পর্কে ময়দানের খবর, সভাপতির পদ থেকে সরে গিয়ে এ বার হয়তো খোলা মনে নির্বাচনী প্রচারে নামবেন টুটু বসু। তাঁর বড় ছেলে সৃঞ্জয় বসুর সমর্থনেই এবার হয়তো তিনি প্রচার শুরু করবেন।