
শোয়েব আখতার-ওয়াসিম আক্রম
শেষ আপডেট: 24 February 2025 15:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের কাছে গোহারান হেরেছে পাকিস্তান (Pakistan)। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে মহম্মদ রিজওয়ানদের বিদায় কার্যত নিশ্চিত। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—তিনটি বিভাগেই পর্যুদস্ত হয়েছে তারা।
এই আবহে পাক ব্রিগেডকে একহাত নিয়েছেন দেশের একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার। ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram) থেকে শোয়েব আখতার (Shoaib Akhtar)—টিম ম্যানেজমেন্ট, অধিনায়ক, কোচ—সকলের ভূমিকায় নাখুশ তাঁরা। দরকার আমূল সংস্কার। পাখির চোখ যদি হয় ছাব্বিশের টি-২০ বিশ্বকাপ, তাহলে টিমে প্রচুর তরুণ ক্রিকেটারকে জায়গা দিতে হবে। তার জন্য প্রাথমিক ঝড়ঝাপ্টা সইতে হলেও প্রস্তুত থাকা জরুরি। একমত সকলে।
হাইব্রিড মডেলে এবার আয়োজিত হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। অর্থাৎ, পাকিস্তান আয়োজক দেশ হলেও ভারত সেখানে খেলতে অস্বীকার করায় দুবাইয়ে দ্বিতীয় ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে আইসিসি। সেখানেই গতকালের ম্যাচ আয়োজিত হয়। যেখানে একটি সম্প্রচারকারী সংস্থার বিশেষজ্ঞ হিসেবে যোগ দিতে উড়ে যান শোয়েব।
ম্যাচ হারার পর দৃশ্যতই বিমর্ষ তিনি। জানান, ‘আমায় টাকা দেওয়া না হলে আমি পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে একটি কথাও বলতাম না। সত্যি বলতে, আমার আর কিছু এসে যায় না। আমায় এখানে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তাই এসেছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বলার কোনও অ্যাজেন্ডা নেই। কেন আমি বেফালতু সময় নষ্ট করব?’
শোয়েবের এই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়াতে বেশি সময় নেয়নি। যদিও এরপর ‘বলব না বলব না’ করেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন শোয়েব। বলেন, ‘পাক ম্যানেজমেন্ট মাথামোটা এবং দিশাহীন। যখন এখনকার সমস্ত দল ছয় বোলারে মাঠে নামে, পাকিস্তান পাঁচজনকে খেলিয়েছে। বেছেছে দুজন অলরাউন্ডার। আমি সত্যি হতাশ।‘
যদিও হতাশার সমস্ত দায়ভার টিমের তরুণ খেলোয়াড় নয়, তাদের মাথার উপর বসে থাকা ম্যানেজমেন্টের ঘাড়েও ঠেলেছেন ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’। শোয়েব বলেন, ‘কোনওভাবেই তরুণ ক্রিকেটারদের দোষী বলা যায় না। এরাও টিম ম্যানেজমেন্টের মতো। কেউই জানে না কী করতে হবে। এদের কারও দক্ষতা কোহলি, বিরাটদের মতো নয়। না নিজেরা কিছু জানে, না ম্যানেজমেন্ট কিছু বোঝে।‘
শোয়েবের মতোই চাঁচাছোলা ভঙ্গিমায় আক্রমণ শানিয়েছেন ওয়াসিম আক্রম। প্রাক্তন পাক পেসার দাবি তোলেন, পাক ক্রিকেটকে পথে ফেরাতে আমূল সংস্কার প্রয়োজন। তার জন্য প্রাচীন ঘরানার ক্রিকেট ছেড়ে আধুনিক চোখে সবকিছু দেখতে হবে। যদি এর জন্য টিমে ৫-৬ জন নতুন ক্রিকেটারকে জায়গা দিতে হয়, তাহলেও ঠিক আছে। এর জন্য ছ’মাস প্রচুর ম্যাচ হারতে পারে পাকিস্তান। কিন্তু ২০২৬-এর টি-২০ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রাখলে এই পথেই হাঁটতে হবে তাদের। সাফ দাবি আক্রমের।
একদা দলের বোলিংয়ের দায়িত্বভার ছিল আক্রমের হাতে। কিন্তু এখন পাকিস্তান টিমের বোলারেরা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছে। সেদিকে নজর টেনে তিনি বলেন, ‘শেষ ৫ ম্যাচে ২৪ উইকেট তুলেছেন পাক বোলাররা। গড় ৬০! ভাবা যায়! তার অর্থ উইকেট পিছু ৬০ রান। এই গড় ওমান, আমেরিকার ক্রিকেট টিমের চেয়েও খারাপ। ১৪টি দল, যারা একদিনের ক্রিকেট খেলছে, তাদের মধ্যে পাক বোলিং আক্রমণ শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।‘
এই হতাশা শুধু শোয়েব, আক্রম নয়, গোটা পাকিস্তান জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যাচ শেষের ১৫ ওভার আগেই গতকাল দুবাইয়ের স্টেডিয়াম ফাঁকা হতে শুরু করেছিল। আক্রমের স্বীকার করেছেন এমন দৃশ্য তিনি জীবনেও দেখেননি। পাকিস্তানের মতো ক্রিকেট-পাগল দেশের জনতার কাছে এমন ঘটনা ‘দুর্ভাগ্যজনক’। জানিয়েছেন আক্রম।