দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি আইএসএলে তাঁর দল কেরালা ব্লাস্টার্স একেবারেই ভাল ফর্মে নেই। এখনও তারা জয়ের মুখ দেখেনি। যে দলের কোচ কিবু ভিকুনা, সেই দলের এমন পারফরম্যান্স বেশ বিস্ময়ের। তার চেয়েও বড় কথা, আইএসএলে সবচেয়ে বেশি বাজেটের দল কেরলেরই। চারটি ম্যাচে মোট নয়টি গোল হজম করেছে ভিকুনার দল।
তারপরেও দলের কর্তারা কোচ ভিকুনাকে দায়ী করতে নারাজ। কর্তাদের বক্তব্য, কোচের কোনও ভুল নেই, তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কিন্তু দলের ফুটবলাররা সেই মতো খেলতে পারছেন না। ভিকুনার প্রতি কর্তাদের ভরসা রয়েছে। তার কারণও রয়েছে, প্রাক্তন মোহনবাগান কোচের দলের প্রতি একাত্মতা ও ভালবাসা।
সেটাই প্রমাণ করলেন আবারও। স্পেনে তাঁর বাড়িতে মা মারা গিয়েছেন সোমবারই। সেই খবর শুনেছেন পুত্র, তারপরেও নিজ দলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ভিকুনা কেরল দলের সঙ্গেই থেকে যাচ্ছেন। ২৭ ডিসেম্বর তাঁর দলের ম্যাচ রয়েছে হায়দরাবাদ এফসি-র বিরুদ্ধে। সেই খেলাতেও প্রত্যাশামাফিক ভিকুনা দলের সঙ্গেই থাকছেন।
কেরল দলের পক্ষ থেকে কোচকে বাড়ি চলে যেতে বলা হয়েছিল, কিন্তু তিনি বাড়িতে থাকা স্ত্রী কাসিনা বিয়েনেকাকে ফোন করে বুঝিয়ে দিয়েছেন এই মুহূর্তে তাঁর কী কর্তব্য। এমনকি তাঁর বাড়িতে ভাই রয়েছেন, তাঁকেও ফোন করে জানিয়েছেন নিজের অবস্থার কথা।
এই মায়ের জন্যই মোহনবাগানের কোচ থাকাকালীন তাঁকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর মা অসুস্থ ছিলেন। এমনকি করোনা কালে দীর্ঘদিন যখন কলকাতায় আটক ছিলেন, সেইসময় চিন্তা ভিকুনার আরও বেশি ছিল। কেননা ভাইরাসজনিত রোগে তাঁর বাবা-মা যদি আক্রান্ত হন, তা হলে কী করবেন, সেটি ভেবেই আকুল হতেন।
যদিও তাঁর স্ত্রী অতি দায়িত্বশীল মহিলা। স্ত্রী হলেন পোল্যান্ডের বাসিন্দা, একবার স্ত্রী তাঁর বাড়িতে ভিকুনার অভিভাবকদের নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন। ভিকুনা কলকাতায় থাকাকালীন সময়ে একবার বলেছিলেন, তাঁর বাবা-মা দুইজনই ঘুরতে ভালবাসেন। তাই সময়-সুযোগ পেলেই তাঁরা বেরিয়ে পড়তেন ইউরোপ ভ্রমণে। তাঁর বাবা জোস আন্তোনিও স্পেনের বাসিক কাউন্টিতে একটি গ্রিল ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন।
মায়ের মৃত্যুসংবাদ ভিকুনা শোনেন সোমবারই দুপুরে। তারপর দলের কর্তাদের জানান। কেরল দলের পক্ষ থেকে তাঁর মায়ের মৃত্যু খবর জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। তাতে লেখা হয়েছে, ‘‘আমাদের কোচ কিবু ভিকুনার মা প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মায়ের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কোচের প্রতি সমবেদনা জানাই। তাঁর কঠিন সময়ে আমরা পাশে থাকব। আমরা তাঁকে অভিবাদন জানাতে চাই, তাঁর দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও পেশাদারিত্বের জন্য।’’
দলের এই কঠিন সময়ে ফুটবলারদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়ে তিনি দেশে ফিরতে চাইছেন না। ভিকুনা মনে করছেন, মা চলে গিয়েছেন, তাঁকে তো গিয়ে আর দেখতে পাব না। কিন্তু তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যদি আমি আরও ভাল কাজ করতে পারি, তাতে মা আরও বেশি খুশি হবেন। তাঁর স্ত্রীও স্বামীকে ফোন করে সান্ত্বনা দিয়েছেন।