
শেষ আপডেট: 16 July 2018 11:09
প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। ছোট্ট দেশটার ব্যুরোক্র্যাটরা ছাড়া আর কেউ জানেনই না প্রেসিডেন্ট কোথায়। হঠাৎ খেলার মাঝপথে ক্যামেরা ক্লোজ শটে ধরল এক ক্রোয়েশিয়ান সমর্থককে। লাল-সাদা খোপ খোপ জার্সিতে সাধারণ গ্যালারিতেই বসে আছেন এক মহিলা। ধারাভাষ্যকাররা অবাক হলেন। একে অপরকে প্রশ্ন করলেন। ইনি কে? দেখতে তো ক্রোট প্রসিডেন্টের মতোই। কিন্তু সাধারণ গ্যালারিতে…
কাউকে না জানিয়ে রাশিয়ায় এসেছিলেন তিনি। ওই ম্যাচেই কয়েক মিনিট পর যখন ধারাভাষ্যকাররা কনফার্ম করলেন ঠিক তার পরের মুহূর্ত থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে শুরু করল কোলিন্দার ছবি।
টাইব্রেকারে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর পৌঁছে গিয়েছিলেন মড্রিচ, রাকিতিচদের লকার রুমে। গোটা টিম তখন জার্সি খুলে জিরিয়ে নিচ্ছেন। এমন সময়ই প্রেসিডেন্ট হাজির। আদুল গায়ের পেরিসিচ, মানজুকিচদের সঙ্গে আলিঙ্গন করলেন কোলিন্দা। টাইব্রেকারে অসামান্য পারফরম্যান্সের পর গোলরক্ষক সুবাসিচকে আঁকড়ে রাখলেন বেশ খানিক্ষণ। এই ফুটেজ আরও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বাঙালিদের কেউ কেউ তো আবার ক্রোয়েশিয়ান না হওয়ার জন্য আফশোসও করছেন!
ভিয়েনা, ওয়াশিংটন ডিসি, হার্ভার্ডে পড়াশোনা করা কোলিন্দা বলতে পারেন ইংরাজী, স্প্যানিশ এবং পর্তুগীজ ভাষা। বুঝতে পারেন জার্মান এবং ফরাসিও। বেশ কিছু দিন নিউ মেক্সিকো শহরের লস আলামস স্কুলে শিক্ষকতা করার পর ২৫ বছর বয়সে যোগ দেন ক্রোয়েশিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে। বিদেশমন্ত্রকের পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেন বেশ কিছুদিন। ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ২০১৫-র ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ন্যাটোর অ্যাাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করেন কয়েক মাস।
এ হেন কোলিন্দা ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেন জেকব কিতারোভিচ নামের এক ব্যক্তিকে। দুই সন্তানের মা কোলিন্দাকে ঘিরে রাশিয়া বিশ্বকাপে যেমন উত্তাপ ছড়িয়েছে তেমনই ছড়িয়েছে গুজবও। অস্ট্রিয়া এবং আমেরিকার একাধিক পর্নস্টারের ছবি ছড়িয়ে লিখে দেওয়া হয়, ‘ইনিই ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট।’
সব দেখে অনেকেই বলছেন, এই বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের ফুল ফোটানো মড্রিচ, রাকিতিচদের যেমন দুনিয়া অনেক দিন মনে রাখবে তেমনই গ্যালারিতে ফুল ফোটানো ক্রোট প্রেসিডেন্টকেও মনে রাখবে বহুদিন।