.jpeg)
ইন্টার মিলান বনাম বার্সেলোনা
শেষ আপডেট: 7 May 2025 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যারিস্টটল তাঁর 'পোয়েটিকসে' গ্রিক ট্র্যাজেডির অঙ্গ বিভাজন দেখাতে গিয়ে ‘হামারটিয়া’ বলে একটি বিষয়ের উল্লেখ করেছিলেন। এর অর্থ: সিদ্ধান্তগ্রহণে নায়কের বিশেষ কোনও ভুল বা স্খলন, যার জেরে তাঁর জীবনে চূড়ান্ত পতন বা বিপর্যয় ঘনিয়ে আসে।
গতকাল রাতে ইতালির ঐতিহাসিক সান সিরো স্টেডিয়ামে যে তিন অঙ্কের বিয়োগান্তক নাটক অনুষ্ঠিত হল, তাকে কাটাছেঁড়া করতে বসলে উঠে আসতে বাধ্য হান্সি ফ্লিকের হামারটিয়া। কেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও দলকে হাই লাইনে খেলার নির্দেশ দিলেন জার্মান কোচ? বিপক্ষ শিবিরে লাউতারো মার্টিনেজের মতো স্ট্রাইকার ফিরে এসেছে জেনেও কেন ডিফেন্স এতটা উপরে উঠে এল? তাঁর এই একটি সিদ্ধান্ত, ভুল সিদ্ধান্তই কি আখেরে বার্সেলোনার সমূহ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠল না?
প্রথম লেগের লড়াই যেভাবে শুরু হয়েছিল, দ্বিতীয় লেগের দ্বৈরথও আরম্ভ হল একই মেজাজে। বদলে গেল স্রেফ ক্লাইম্যাক্সটুকু। স্পেনের এস্তাদিও অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ইন্টারকে এগিয়ে দেন থুরাম। ফাইনাল বল বাড়িয়েছিলেন ডামফ্রিজ। গতকালও ম্যাচের প্রথম আঘাতটি হানল ইতালির ক্লাব। মাস্টারমাইন্ড সেই ড্যানজেল ডামফ্রিজ। ২১ মিনিটের মাথায় নিখুঁত ফিনিশে ইন্টারকে এগিয়ে দেন আর্জেন্তিনীয় স্ট্রাইকার মার্টিনেজ৷
পিছিয়ে গিয়ে আগের সপ্তাহের মতোই কুঁকড়ে যায় বার্সা। পরপর আক্রমণ শানাতে থাকে ইন্টার মিলান। হেনরিখ মিখিটারিয়ান এবং হাকান চালহাংগলুর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়৷
কিন্তু বেশিক্ষণ হতাশ হয়ে থাকতে হয়নি সিমনে ইনজাঘির টিমকে। বিরতির ঠিক আগে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন৷ ডি বক্সে মার্টিনেজকে অবৈধভাবে ট্যাকল করেছিলেন পাউ কুবার্সি৷ যার মাশুল গুনতে হয় দলকে। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান চালহাংগলু৷
হাফ টাইমের পরে বার্সেলোনার কামব্যাক আশা করেছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু ছবিটা বদলায়নি। ফ্র্যাঞ্চেসকো অ্যাচের্বি ফ্রিকিক থেকে হেডে গোল করলেও তা অফ সাইডের জন্য বাতিল হয়৷
এরপরই হঠাৎ করে ম্যাচে ফিরে আসে বার্সা। জেরার্ড মার্টিনের পাস থেকে দলের প্রথম গোল করেন এরিক গার্সিয়া। ম্যাচের বয়স তখন ৫৪ মিনিট। ইন্টার মিলান তখন সবে নিজেদের গুছিয়ে নতুন করে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই সময়, প্রথম গোলের ছ'মিনিট বাদেই, দ্বিতীয় গোল করে লড়াইয়ে সমতা ফেরান ড্যানি অলমো।
যখন মনে হচ্ছে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, সেখান থেকে পেনাল্টি শুট আউটে ফয়সালা হওয়াটাও অসম্ভব কিছু নয়, তখন বার্সেলোনার তিন নম্বর গোল করে ম্যাচে প্রথমবারের জন্য দলকে এগিয়ে দেন রাফিনহা৷
কিন্তু নাটক এখানেই শেষ নয়। ক্লাইম্যাক্সের স্ক্রিপ্ট একা হাতে বদলে দেন অ্যাচের্বি। সেটাও নব্বই মিনিট পেরনোর পর সংযুক্ত সময়ে। ৯৩ মিনিটে দলের তৃতীয়, ম্যাচের ছ'নম্বর গোল করেন তিনি। লড়াই গড়ায় একস্ট্রা টাইমে। সেখানে অন্তিম গোল, জয়সূচক গোল করে ৪-৩ স্কোরলাইনে ম্যাচের ফয়সালা এঁকে ইন্টারের ভাগ্যবিধাতা হয়ে ওঠেন ফ্রাত্তেসি৷
দুই টাই মিলিয়ে ৭-৬ গড় হিসেবে জিতে ফাইনালে উঠে গেল ইন্টার মিলান। স্বপ্নভঙ্গের বেদনা বুকে নিয়েই বিদায় নিতে হল বার্সেলোনাকে। ২০২২ সালের পর ফের চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার চূড়ান্ত লড়াই খেলতে নামবে সিমনে ইনজাঘির বাহিনী। সামনে কোন দল, সেটা জানা যাবে আজ। পিএসজি-আর্সেনাল ম্যাচের জয়ী টিম মিউনিখ ফাইনালে ইন্টারের মুখোমুখি হতে চলেছে৷