
ইন্টার মিলান বনাম বার্সেলোনা
শেষ আপডেট: 6 May 2025 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে আজ মহারণ। মুখোমুখি দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ—বার্সেলোনা-ইন্টার মিলান। জয়ী টিম উঠবে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে দুই দলের লড়াই ৩-৩ স্কোরলাইনে অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। দ্বিতীয় লেগ আজ রাতে। যে টিম জিতবে তারা মিউনিখের ফাইনালে আর্সেনাল বনাম পিএসজি ম্যাচের বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে।
লড়াই যে কাঁটায়-কাঁটায়, দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ যে একে অন্যকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, সেটা বোঝা গিয়েছিল প্রথম লেগেই। প্রথমার্ধে দু’গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার। মনে হচ্ছিল, ফার্স্ট লেগেই গোটা টাইয়ের ফয়সালা করে দেবে সিমনে ইনজাঘি বাহিনী। দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিলেন স্ট্রাইকার থুরাম। রাইট উইং ব্যাক ডামফ্রিজকে সামলাতে নাজেহাল হন পেদ্রি, মার্টিনরা। মাঝমাঠেও বারেল্লা, মিখিটারিয়ান দখল নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
দু’গোলে পিছিয়ে থাকার পর ম্যাচে ফিরে আসে বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামাল কামব্যাকের সূচনা করেন। পরে বাকি দায়িত্ব তুলে নেন রাফিনহা, ফেরান টোরেসরা।
এমনিতে চলতি মরশুমে বার্সেলোনাকে অপ্রতিরোধ্য না দেখালেও ট্রফিজয়ে ইতিমধ্যে সাফল্য পেয়েছে হান্সি ফ্লিকের টিম। জিতে নিয়েছে কোপা দেল রে। লা লিগাতেও ফ্রন্টরানার তারাই। পিছিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু ঘরোয়া টুর্নামেন্ট এক জিনিস, চ্যাম্পিয়নস লিগ আলাদা—অনেক কঠিন ঠাই! সে কথা বার্সেলোনা ভালমতো জানে। শেষ বার তারা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল ২০১৪-১৫ মরশুমে। সে বছর আগুনে ফর্মে ছিল মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ জুটি। আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিপক্ষ টিমের রক্ষণকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছিল।
এ বছর দৃশ্যপট একদম আলাদা। বার্সার হাতে কোনও মেসি নেই। কিন্তু লামিন ইয়ামাল আছেন। আর আছেন লেভানডস্কি। চোটের জন্য প্রথম লেগে নামতে পারেননি। সান সিরোয় জায়গা পাকা। বছর ছত্রিশের পোলিশ স্ট্রাইকার বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। চলতি মরশুমে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। স্পেনে এই নিয়ে তিন নম্বর মরশুম চলছে লেভানডস্কির। দুই বড় টিমের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফয়সালা এঁকে দেন বড় মাপের ফুটবলাররা। অতীতে ইন্টারের হয়ে এ কাজ করেছেন স্যামুয়েল এটো, বার্সার হয়ে মেসি। এবার দায়িত্বটা লেভানডস্কির ঘাড়ে!
অন্যদিকে ইন্টারও গা ঘামাতে নামবে না। ঘরের মাঠের বিপুল সমর্থনকে কাজে লাগাতে মরিয়া লাউতারো মার্টিনেজরা। ২০২২ সালে ফাইনালে উঠেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল সিমনে ইনজাঘিকে। রদ্রিগোর গোলে শেষ হাসি হাসে পেপ গোয়ার্দিওলার ম্যাচ সিটি। এবার তারা সেই ছবি পাল্টাতে চাইবে।
কিন্তু সমস্যা অনেক। একদিকে ক্ষুধার্ত বার্সা। ২০১৫ সালের পর যারা ফাইনালে ওঠেনি। লামিন ইয়ামাল দুরন্ত ফর্মে; যাকে মার্ক করে নির্বিষ করা কার্যত অসম্ভব বলে ম্যাচ শুরুর আগেই ঘোষণা করেছেন ইনজাঘি। অন্যদিকে স্ট্রাইকার মার্টিনেজের চোট সারলেও তিনি এখনও ম্যাচ ফিট নন। ফলে আজ রাতে তাঁকে দেখতে পাওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা নেই।
ইতিহাস যদিও বলছে, লড়াই সেয়ানে-সেয়ানে। এর আগে সান সিরো থেকে খুব একটা হাসিমুখে ফেরেনি বার্সা। মোট ১৮ বার দুই দল মুখোমুখি হয়। গত দু’বার লড়াই শেষ হয়েছিল ৩-৩ ফলাফলে। ইন্টারের বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে মোট ছ’বার নেমেছে বার্সেলোনা। জিতেছে মাত্র একবার। সেটাও ২০১৯ সালে। ওই ম্যাচে ইন্টারকে ২-১-এ হারিয়েছিল বার্সেলোনা। তা ছাড়া শুধু ইন্টার নয়, ইতালির মাটিতেই ২৪টি ম্যাচের মোট ৫টিতে জিতেছে বার্সা (২১% জয়)। স্পেনের বাইরে আর কোনও দেশের দলগুলির বিরুদ্ধে বার্সেলোনা এতটা খারাপ পারফরম্যান্স দেখায়নি।
এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে মাঠে নামবেন না ইয়ামালরা। তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে এবারের বার্সা টিম নতুন রণসজ্জায় সজ্জিত। কোনও একজন, দুজন তারকা ফুটবলারের একক দক্ষতায় আর ম্যাচ জেতে না তারা। সংঘবদ্ধভাবে ডিফেন্স করলে, ইন্টারের দুর্দান্ত রক্ষণকে চাপে রাখতে পারলে ইতালি-বিজয় অসম্ভব নয়। রণকৌশল কাটাছেঁড়ার ফাঁকে একথাই পেপ টকে মেলে ধরতে চাইবেন হান্সি ফ্লিক।