দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্লাতিনি একবার বলেছিলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা বলেন ফুটবলের দুটি দর্শন। এক, ফুটবল টিম গেম। এবং দুই, টিম গেম হলেও একজন বা দু’জন ব্যক্তি আসলে ফারাক গড়ে দেন।’
একটি স্পোর্টস কিট প্রস্তুতকারক সংস্থার আয়োজিত ওই সেমিনারে প্লাতিনির আরও সংযোজন ছিল, ‘জয়টাই যখন খেলায় শেষ কথা তখন দুটোর মেলবন্ধন করতে হয়। জিততে গেলে লাগে টিম গেম এবং ব্যক্তি প্রতিভা। একসঙ্গে। সমান্তরালভাবে।’
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকদের অনেকেই প্লাতিনির এই বক্তব্যকে ফুটবলের ‘তৃতীয় দর্শন’ বলে থাকেন। আর ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম দুটি ম্যাচ দেখিয়ে দিল প্লাতিনিই ঠিক। জিতল ‘তৃতীয় দর্শন।’
নকআউট পর্বের শুরুর দুটি ম্যাচে ১০টি গোল হয়েছে। প্রথম ম্যাচে ৭। পরের ম্যাচে তিন। ফিফা কর্তারা আনন্দ পেতেই পারেন। কারণ ‘গো ফর গোল’ স্লোগান বাস্তবায়িত হতে শুরু করে দিয়েছে রুশ দেশের মাটিতে। আর্জেন্টিনার প্রথমে গোল হজম। তারপর গোল শোধ। তারপর এগিয়ে যাওয়া। আবার ফ্রান্সের সমতায় ফেরা। এরপর আর রোখা যায়নি ফরাসিদের। টিম গেমের সঙ্গে এমবাপে, গ্রিজম্যান, পোগবার ব্যক্তি প্রতিভার সমান্তরাল বিচ্ছুরণ।
একই ঘটনা ঘটল পরের ম্যাচেও। উরুগুয়ের টিম গেম আর কাভানির ব্যক্তি প্রতিভা। সঙ্গে লুইস সুয়ারেজ। উরুগুয়ের দুর্ভেদ্য ডিফেন্সের সামনে বারবার খেই হারালেন সিআরসেভেন। আর ডিফেন্স সামলে আক্রমণের ছকে ২০১০-এর পর উরুগুয়ে আবার শেষ আটে।
অনেকেই বলেছিলেন উরুগুয়ে-পর্তুগাল ম্যাচ হবে এল ক্লাসিকো। রোনাল্ডো বনাম সুয়ারেজ। বার্সা বনাম রিয়েল। ক্লাব ফুটবল যখন সারা বছরের ফুটবলপ্রেমীদের বেঁচে থাকার অন্যতম রসদ, তখন সবার থেকে এগিয়ে রইল প্যারিস সাঁ জা। দশটি গোলের মধ্যে পাঁচটি এল তাদের খেলোয়াড়ের বুট থেকে। দুটি এমবাপে, দুটি কাভানি এবং একটি ডি মারিয়া। যে পিএসজি’কে বার্সা মেসির বার্সা হাফ ডজন গোল দিয়েছিল। যে রোনাল্ডোর রিয়েলের কাছে হেরে এ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল কাভানিদের পিএসজি’কে বিশ্বকাপের মঞ্চে তারই উলটপুরান লেখা হয়ে গেল এ দিন।
দিনের শেষে উরুগুয়ে, ফ্রান্সের মতো জিতল ফুটবলের তৃতীয় দর্শন।