
শেষ আপডেট: 18 November 2023 23:33
বাঙালিদের কাছে গর্বের মুহূর্ত। আমদাবাদে বিশ্বকাপ ফাইনালের বাইশগজের দায়িত্বে দুই বাঙালি পিচ কিউরেটার। অবাক করার মতো ঘটনা হলেও এটাই সত্যি।
একজন আশিস ভৌমিক। যিনি আদতে ত্রিপুরার বাসিন্দা। অন্যজন তাপস চট্টোপাধ্যায়, যিনি থাকেন জয়পুরে। কিন্তু কলকাতার এন্টালিতে তাপসের আদি বাড়ি। তিনি একটা সময় সিএবি লিগে আম্পায়ারিংও করাতেন।
তাপসকে ভারতীয় ক্রিকেটের জগৎ চেনানোর মূলে ললিত মোদী। ললিত সেইসময় রাজস্থান ক্রিকেটের শীর্ষ কর্তা। সেইসময় তাপসকে জয়পুরে সোয়াই মান সিং স্টেডিয়ামের পিচের দায়িত্ব ডাকেন। তার আগে অবশ্য বোর্ডের পিচ কিউরেটার পরীক্ষায় পাশও করেছিলেন।
আশিস আগে ছিলেন ত্রিপুরার দেশের কথা পত্রিকার ফটোগ্রাফার। সংবাদপত্রের জন্য ছবি তুলে বেড়াতেন। পাশাপাশি ত্রিপুরার বীর বিক্রম স্টেডিয়ামের পিচ তৈরির কাজ করতেন শখে। সেটাই যে পরবর্তীকালে পেশা হয়ে যাবে, আশিস জানতেনও না। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই সপ্রতিভ মানুষটি নিজের ইচ্ছেশক্তিতে মুম্বইতে গিয়ে পিচ কিউরেটারের পরীক্ষা দেন ২০১১ সালে। সেইবছরই ধোনিরা বিশ্বজয় করেছিলেন ২৮ বছর পরে। মুম্বইতে সেদিন মাঠে ছিলেন আশিস। মাঠে থেকে দেখেছিলেন পিচ তৈরির কাজ কী হতে পারে।
সেদিনও মনে হয় আশিস ভাবতে পারেননি ১২ বছর পরে তিনিই ফাইনালের মূল পিচ কিউরেটার হবেন। আইসিসি নিযুক্ত পিচ কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাটকিনসনও ভরসা করেন আশিসকে। তাই অ্যাটকিনসন কয়েকদিনের জন্য দেশেও ফিরে গিয়েছিলেন আশিসকে সবটা বুঝিয়ে।
ইডেনে মুম্বইতে সেমিফাইনাল ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচ বলা হচ্ছে। ইডেনের পিচের ভূয়সী প্রশংসা করেন ওয়াসিম আক্রম। সুলতান অব সুইং বলেছিলেন, ইডেনের পিচের মতো দেশের সব কেন্দ্রে যদি এমন পিচ হতো, তা হলে ৫০ ওভারের ওয়ান ডে আরও জমে যেত।
আর সেই পিচের আসল রূপকার আশিসই। তাঁর পায়ের তলায় সর্ষে রয়েছে। এই আগরতলা, আবার কখনও চলে যাচ্ছেন মুম্বই, কোনওক্রমে রাতটা কাটিয়ে আমদাবাদে। বিশ্বকাপের দেড় মাস একবারও বাড়িতে যেতে পারেননি।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পিচ কমিটির চেয়ারম্যান দলজিৎ সিংয়ের অবসরের পরে আশিস দায়িত্বে এসেছেন। তাঁকে এম এস ধোনি ডাকতেন, পিচ কন্ট্রোলার। রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের কাছেও তিনি সমান প্রিয়। সকলের সঙ্গে আশিসের দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক।
এন্টালির তাপস আবার আশিসেরই সহকারী হিসেবে কাজ করছেন একবছর ধরে। এই দুই বাঙালির ওপর নির্ভর করছে রবিবার ম্যাচে কারা বেশি প্রভাব ফেলবে। সেই নিয়ে অবশ্য দু’জনেই কিছু বলেননি। কারণ তাঁদের বলা নিয়ে আচরণবিধি রয়েছে।