
শেষ আপডেট: 10 July 2018 14:03
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের দুর্নাম ছিল, যে তারা ভালো খেললেও গোল বেশি করতে পারে না। রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত শেষ ৯ খেলায় ম্যাচ পিছু একটা করেই গোল করতে পেরেছিল তারা। কিন্তু ছবিটা বদলাল রাশিয়াতে। বলা ভালো বদলালেন হ্যারি কেন। ইংল্যান্ডের এই দীর্ঘদেহী অধিনায়ক চলতি বিশ্বকাপে ছয় গোল করে ‘গোল্ডেন বুটের’ দৌড়ে শীর্ষে আছেন। শুধু গোল করাই নয়, করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন। বারবার নিজের জায়গা বদল করছেন। ছটফট করছেন গোল করার জন্য। তাঁকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিপক্ষ দলের ডিফেন্ডাররা।
ব্রিটিশ দলের এই সাফল্যের পেছনে নিঃশব্দে কাজ করে চলেছেন আরও একজন ব্যক্তি, গ্যারেথ সাউথগেট। ইংল্যান্ডের কোচ সাউথগেট পুরোনো দলগুলোর মতো নামের পেছনে ছোটেননি। তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন খেলোয়াড়দের কার্যকারীতার উপর। এ ছাড়াও তরুণ খেলোয়ারদের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। পরিশ্রম করেছেন সেটপিসের উপর। রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের করা ১১ টি গোলের মধ্যে ৯ টিই এসেছে সেটপিস থেকে। এরসঙ্গে তিনি নক আউটে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের টাইব্রেকার ভীতি কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কলম্বিয়াকে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে হারিয়েই কোয়ার্টারে উঠেছে ইংল্যান্ড।
অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া দলের প্রধান অস্ত্র টিমগেম। দলে তারকা খেলোয়াড় বলতে অধিনায়ক লুকা মড্রিচ, ইভান রাকিতিচ, পেরিসিচ ও মানজুকিচ। খেলা পরিচালনা করেন মূলত মড্রিচ। মাঝমাঠে তাঁকে সাহায্য করেন রাকিতিচ। আর আক্রমণের প্রধান ভরসা পেরিসিচ ও মানজুকিচ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের আধিপত্য অন্য দলগুলোকে বিপদে ফেলেছে। তরুন ক্রামারিচ, ভিদা দুরন্ত খেলছেন। এছাড়াও তাঁদের অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন গোলকিপার সুবাসিচ। প্রি কোয়ার্টার ও কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে জিতেই শেষ চারের জায়গা পাকা করেছে ক্রোয়েশিয়া। ডেনমার্কের বিরুদ্ধে তিনটি ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে দুটি পেনাল্টি বাঁচিয়ে নায়ক হয়ে উঠেছেন সুবাসিচ।
৪১ লাখ জনসংখ্যার এই দেশের খেলোয়াড়দের মনোবল জোগাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট কলিন্ডা গ্র্যাবার কিতারোভিচ। দেশের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট বিমানের ইকনমিক ক্লাসে অন্য সমর্থকদের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছেন রাশিয়া। ভি.আই.পি বক্সে দেশের জার্সি পরে বসার অনুমতি না মেলায় সাধারণ লোকেদের সঙ্গে বসে খেলা দেখেছেন। পড়ে অনুমতি পাওয়া গেলে ভি.আই.পি বক্সে আনন্দে মাততে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকী খেলার শেষে ক্রোয়েশিয়ার ড্রেসিংরুমে গিয়ে খেলোয়াড়দের উৎসাহ জুগিয়েছেন। বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছে এই ছোট্ট দেশ।
তাই বলায় যায়, বুধবার রাতে লুঝনিকির মাটিতে মুখোমুখি হচ্ছে এই বিশ্বকাপের অন্যতম দুই সঙ্ঘবদ্ধ দল। কোনও রকম প্রত্যাশা ছাড়াই তারা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছেন। দুই দলই জানে, বিশ্বকাপ জয়ের সেরা সুযোগ তাদের সামনে। বাকি আর মাত্র দুটো ধাপ। উপায় একটাই, জয়। আর সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামতে চলেছেন মড্রিচ-হ্যারি কেনরা।