দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের জীবন ফিরিয়ে দিয়ে যেমন নায়ক সাইমন কায়ের, তেমনি এক ব্রাজিলিয়ানও জীবন বাঁচিয়েছিলেন দেবজিৎ ঘোষের।
২৬ জুলাই, ২০০৩। সুভাষ ভৌমিকের প্রশিক্ষণাধীন ইস্টবেঙ্গল ক্লাব আসিয়ান কাপ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নেমেছে পারসিতা তাঙারেঙের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে মাঠে লুটিয়ে পড়েন মিডফিল্ডার দেবজিৎ ঘোষ। সেইসময় লাল হলুদ মাঝমাঠের স্তম্ভ তিনি। জাকার্তায় ওই ম্যাচটিতে সতীর্থ ব্রাজিলিয়ান ডগলাস দ্য সিলভা যদি দ্রুত সিপিআর না চালু করতেন, হয়তো দেবজিৎকে বাঁচানো সম্ভব হতো না।
সেই কথা মনে করে রবিবার আরও স্মৃতিমেদুর দেবজিৎ। বলছিলেন, ‘‘আমার স্ত্রী-কেও আমি বলছিলাম এরিকসেনের ঘটনা ঘটার পরে। সেদিনের কথা মনে এসেছে আমারও। সেদিন যদি ডগলাস, আর আমাদের ডাক্তার শান্তিদা (ডাঃ শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত) দ্রুত আমাকে সিপিআর না দিত, তা হলে আমাকে বাঁচানো যেত না।’’ দেবজিৎ এও জানালেন, ‘‘আমার সঙ্গে এরিকসেনের আরও একটা মিল রয়েছে, ওঁর জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারি, আমার ২৭ ফেব্রুয়ারি। একই মাসে আমাদের জন্ম।’’
আসল কাজটি করেছিলেন ডগলাস, যিনি এই মুহূর্তে ব্রাজিলের মানাউসে রয়েছেন। তিনিও ম্যাসেঞ্জারে সেদিনের ঘটনা উল্লেখ করে জানালেন, ‘‘এরিকসেন যে জীবন ফিরে পেল সেটি ঈশ্বরের করুণা। তবে দলের ক্যাপ্টেন কায়ের যে কাজটি করেছে, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। লাল হলুদের প্রাক্তন তারকার কথায়, আমিও ওইভাবেই দেবজিৎকে মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস ক্রিয়া চালু করার চেষ্টা করেছিলাম, তারপর তো শান্তিদা ছিলই।’’
দেবজিৎ তারপরেও ফুটবলের মূলস্রোতে ফিরে এসেছিলেন। লাল হলুদের অধিনায়কও হয়েছিলেন। এরিকসেন ফিরবেন কিনা সেই নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ ইতালিতে নিয়ম, হৃদরোগের সমস্যা দেখা দিলে তাঁকে আর ঘরোয়া ফুটবলে খেলতে দেওয়া হয় না। এরিকসেন খেলেন ইন্টার মিলানে। যদিও হাসপাতাল থেকে তাঁর ইসিজি রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
দেবজিতের ঘটনা যতটা গুরুতর, ততটা নয় দীপেন্দু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে। তাঁর হৃদরোগজনিত সমস্যা ছিল, সেই কারণে মাহীন্দ্র তাঁর চুক্তি বর্ধিত করেনি। সেই নিয়ে দীপেন্দু জানালেন, ‘‘আমাকে তো পরে ডাক্তাররা জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনও সমস্যা নেই, আপনি খেলতে পারবেন। তারপর তো আমি ফিরে এসেছিলাম, খেলেছিলাম অমলদা-র ডায়মন্ড সিস্টেমে। চিমার সঙ্গে জুটি দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।’’
সেই চিমাই আবার আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল শঙ্করলাল চক্রবর্তীর জীবনে। ডার্বি ম্যাচে চিমা বাজে ভাবে ট্যাকল করেছিলেন শঙ্করলালকে। সিনবোন ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গিয়েছিল। তিনবছর তিনি মাঠ থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরেও আসেন সুভাষ ভৌমিকের ডাকে। শঙ্করলাল বলছিলেন, ‘‘আমার সঙ্গে এরিকসেনের তেমন মিল নেই, মিল বরং রয়েছে আমাদের দেবজিতের সঙ্গে। আমার তো চোটে জীবন অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এরিকসেনের সমস্যা আরও গুরুতর।’’
বরং এরিকসেনের জীবনের সঙ্গে মিল রয়েছে মহামেডানে গতবছর খেলে যাওয়া তরুণ ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির। তাঁর হৃদরোগ সমস্যা রয়েছে বলে ফেডারেশন তাঁকে খেলতে দেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেই নিয়ে আনোয়ারের পরিবার আদালতেও গিয়েছে।