দ্য ওয়াল ব্যুরো: লড়াইটাই জীবনের মূলমন্ত্র। সোনার পাথরবাটিতে আর যাইহোক চ্যাম্পিয়ন বেরোয় না। তার জন্য থাকে শ্রম, অধ্যাবসায় ও সংকল্প।
বাসচালকের মেয়ে প্রণতি নায়েক। প্রতিদিন বাবার কাজ থাকত না, যেদিন বেরতেন, পকেটে নিয়ে ফিরতেন ২০০ টাকা। তার মধ্যেই সবকিছু, আবার হয়তো দেখা গেল তিনদিন বসে রয়েছেন বাড়িতে। আয় বলতে ওইটুকুই।
একমাত্র মেয়ের মুখে অনেকদিন এমনও হয়েছে ভাল করে খাবার দিতে পারেননি। কষ্ট বুকে নিয়ে রাতটা কোনওমতে কাটিয়েছেন, আবার সকালে বেরিয়েছেন রুটিরুজির আশায়।
এরকম যাঁর জীবন, তাঁর আর কি সাধ থাকতে পারে! তবে স্বপ্ন বলতে ছিল জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়া, সেটি বহুবার হয়েছেন প্রণতি। মেদিনীপুরের পিংলার মেয়ে রবিবার ভোরে নামছেন অলিম্পিকে নিজের ইভেন্ট। তাঁর কাছে কঠিন পরীক্ষা, সব দেশবাসী অপেক্ষা করবে তাঁর জন্য। ভোর সাড়ে ছয়টায় ইভেন্ট। জিতলে এগোবেন, হারলেও জিতবেন।
একটা সময় মুড়ি খেয়ে প্র্যাকটিসে নামতেন। অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। করোনা কালে তাঁকে ঘরবন্দী থাকতে হয়েছে। শেষ দু’মাস কলকাতা সাইতে এসে প্র্যাকটিস করেছেন।
প্রণতির কাছের বন্ধু, দেশের আরও এক কৃতি জিমনাস্ট উত্তরপাড়ার সৌমাশ্রী দাস এদিন সন্ধ্যায় বলছিলেন, ‘‘প্রণতিদি-র শক্তিশালী দিক হল আনইভেন বার ও টেবিল ভল্ট। আর খুব সিরিয়াস, এটাই ওকে এতদূর নিয়ে এসেছে। করোনা কালের আগে দিদির সঙ্গে সাইতে প্র্যাকটিস করেছি, তারপর তো আমাদের জীবনই বদলে গেল, শুনেছি গ্রামের বাড়িতে গিয়েও শরীর ফিট রাখার চেষ্টা করে গিয়েছে।’’
যদিও সাই যখন বন্ধ ছিল, সেইসময় বারাসত সমন্বয় ক্লাবের কোচ প্রাক্তন তারকা রাখী দেবনাথ প্রভূত সহায়তা করেছেন প্রণতিকে। লকডাউনের সময় বারাসাত শহরে সমন্বয়-এর মাঠে তাঁর কোচিং সেন্টার। প্রণতিকে নিজের কাছে রেখে, অনুশীলনের সুযোগ করে দেন রাখী। প্রণতির সঙ্গেই অনুশীলন করতেন প্রীতি, সুমনরা। প্রণতির কাছ থেকেই কঠিন পরিশ্রমের মন্ত্র শেখা ওখানকার ছাত্রছাত্রীদের। কতটা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজেকে ছাপিয়ে যেতেন প্র্যাকটিসের সময়।
পিংলার কড়কাই (চক কৃষ্ণদাসপুর) গ্রামের বাড়িতে বসে বাবা শ্রীমন্ত নায়েক কিংবা ছোটবেলার কোচ চন্দন কুমার পাঁজা ইতিহাস দেখার অপেক্ষায়। বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের যা মনের জোর, তাতে শেষ দেখে ছাড়বে। কোচ চন্দন কুমার পাঁজা বললেন, "প্রণতি শুধু ১৩০ কোটি ভারতবাসীর স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার নিয়েই অলিম্পিক যাত্রা করেনি, ওর প্রতিটা লড়াই, প্রতিটা ছন্দের সঙ্গে খেতে না পাওয়া বহু প্রতিভাবানদেরও শক্তি জোগাবে।’’