দীপেন্দু বিশ্বাস
এই ভারতীয় দলটিকে দেখে বেশ ভাল লাগছে। জুনিয়র ছেলেগুলো দারুণ, খুব চনমনে। সারাক্ষণ দৌড়ে বিপক্ষকে চাপে রাখে। কোচ হিসেবে ইগর স্টিম্যাশের এখানেই সফলতা।
আগে ভারতীয় দল বলতে ছিল কয়েকটি বিশেষ নাম। তারাই ঘুরেফিরে দলে থাকত। এই ভারতীয় দলে প্রথম একাদশে বদল ঘটছে বারবার। তার মানে ফুটবলাররা জেনে গিয়েছে ভাল না খেললে দল থেকে বাদ পড়তে হবে।
সোমবার ম্যাচের কথাই ধরুণ। আশিক কুরিয়ান, ব্রেন্ডন ফার্নান্দেজ, সুরেশ সিং, শেষেরদিকে ইয়াসির, লিস্টনরাও নিজেদের প্রমাণ করতে পেরেছে। এই ইগরই প্রথম ভারতে কোচিংয়ে এসে জানিয়েছিলেন দলে কেউ যেন ভেবে না বসেন তাঁর স্থান পাকা।
বেশ মনে রয়েছে, সেইসময় তিনি সুনীল ছেত্রীকে একপ্রকার বার্তা দিয়ে রেখেছিলেন দলে টিকে থাকতে হলে পারফরম্যান্স করতে হবে। আমার তো মনে হয় সুনীল যে ফের স্বমহিমায় ফিরল, তার অবদান ইগরের। তিনি সেইসময় এমন না বললে হয়তো সুনীলের আগুন বাইরে আসত না।
তারপর নিজের ফিটনেসের দিকে নজর দিয়েছে। নিজের রুটিন বদলে ফেলে অনেক পরিশীলিতও হয়েছে। এটাই একজন বড় ফুটবলারের গুন।
সুনীলের এদিনের দুটি গোলই দারুণ, তবে বেশি ভাল দ্বিতীয়টি। কী সুন্দর প্লেসিং করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে রাখল। সুনীলের খেলার বড় বিশেষত্ব, খুব দ্রুত সুইচওভার করতে পারে। বিপক্ষ বুঝতেই পারবে না কখন কীভাবে ভেদ করে যাবে প্রতিপক্ষ বক্স, আর চোরা গতিও ওর সম্পদ।
সুনীলের খেলা আরও ধারালো হয়েছে আইএসএলে টানা খেলার কারণে। বেঙ্গালুরু এফসি দলের সিনিয়র, বিদেশী ফুটবলার ও কোচদের সান্নিধ্যের কারণে ওর মানসিকতার বদল ঘটেছে। ওর খেলার স্টাইলও ইউরোপ ঘরানার মতো হয়েছে। আর ৩৬ বছর বয়সেও এত তরতাজা সেটি ওর ফিটনেসের কারণে। শরীরর ওজন বাড়তে দেয়নি, ডায়েট মেনে চলে খুব। খাবারের বিষয়ে সদা সতর্ক। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হল, ভাল খেলার ইচ্ছে, আর গোল করার খিদে।
আমি একজন স্ট্রাইকার হওয়ায় এটা ভাল বুঝি গোল করতে গেলে মানসিকভাবে তাকে তরতাজা থাকতে হয়। ভেতরে আনন্দ না থাকলে ভাল খেলার স্ফূরণটা তৈরি হয় না, এটাই নিয়ম, মনস্তত্ত্ব তাই বলে।
প্রাক বিশ্বকাপ পর্বে আর সম্ভাবনা নেই। তবে পরের আফগানিস্তান ম্যাচে জিততে পারলে এশিয়ান কাপে নামার আগে ভারতীয় দলের মনোবল অনেক বাড়বে। তবে সুনীলকে সহায়তা করার জন্য মনবীর, উদান্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিদিন সুনীল জেতাবে তা হবে না, নিজেদেরও আরও বলিয়ান হতে হবে, তবেই না টিম হিসেবে খেলার মধ্যে একটা সংঘবদ্ধতা থাকবে।
আরও একটা কথা, দলের অধিনায়ক যেহেতু সুনীল ছেত্রী, তাই হারার আগে হারব না, এই মানসিকতা নিয়ে নামতে হবে বাকিদের। কারণ যা বুঝি, সুনীল দেশকে টানা নেতৃত্ব দিচ্ছে, এটিও তার কাছে বাড়তি তাগিদ ভাল খেলার, এই সুবিধে সবাই পায় না। তাই তো সুনীল টপকে যেতে পারল লিওনেল মেসিকে, সুনীলের গোল ভারতের হয়ে ৭৪, সামনে শুধু রোনাল্ডো, পর্তুগিজ স্টারের গোল ১০৩ দেশের হয়ে। এটিও তো আমাদের কাছে গর্বের বিষয়।