
মুম্বই বনাম জম্মু-কাশ্মীর
শেষ আপডেট: 26 January 2025 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাতায়-কলমে লড়াইটা ছিল অসম। ঠিক যেন ডেভিড বনাম গোলিয়াথের দ্বৈরথ। একদিকে তারকাখচিত মুম্বই। অন্যদিকে তুলনায় অনভিজ্ঞ জম্মু ও কাশ্মীর। তবু দিনশেষে লড়াইটা জিতে নিলেন আব্দুল সামাদ, উসমান মালিকরা। রোহিত শর্মা না পেলেন রান। না জুটল তিন পয়েন্ট। স্রেফ কানে এল দর্শকদের বন্দনা: ‘মুম্বই কা রাজা, রোহিত শর্মা’। মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ার পর অনুরাগীদের দেদার অটোগ্রাফ বিলোলেন, তুললেন সেলফি।
অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমে গেলেন যিনি, তাঁর নাম সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। জন্মসূত্রে মুম্বইকর। রঞ্জিতে বহু স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন মুম্বইয়ের হয়ে। তবু বিজয়ী কাশ্মীরি ক্রিকেটারদের পিঠ চাপড়ে দিতে ঢুঁ মারলেন তাঁদের ড্রেসিং রুমে।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন ক্রিকেটারদের একটি আসন্ন টুর্নামেন্টের জন্য এমসিএ-বিকেসি ক্লাবে প্র্যাকটিস করছিলেন সচিন। গতকাল রঞ্জি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর একদা সতীর্থ ইরফান পাঠানকে নিয়ে তিনি জম্মু-কাশ্মীরের ড্রেসিং রুমে যান। কিন্তু সেই সময় সদ্য খেলা শেষ হয়েছে। ক্রিকেটারেরা ক্লান্ত ছিলেন। তাই নিজে থেকেই তাঁদের আসতে বারণ করেন। বদলে টিমের ম্যানেজার অনিল গুপ্তাকে ধন্যবাদ জানান। অনিল পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারকায় ভরা মুম্বইকে তাদেরই ডেরায় হারানো খুব বড় সাফল্য। যে কারণে ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকর স্বয়ং এসেছিলেন খেলোয়াড়দের কুর্নিশ জানাতে। কিন্তু তাঁরা অমানুষিক পরিশ্রমের ফলে বিধ্বস্ত থাকায় দেখা করতে পারেননি।‘
এই প্রসঙ্গে নিজেদের ট্যাকটিক্সও ফাঁস করেছেন তিনি। এমনিতে ঘরের মাঠে মুম্বই ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী দল। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের সামনে বরাবর আটকে গেছে তারা। এর আগে ২০১৪ সালে হারের মুখ দেখতে হয়। সেবারের সাফল্যকে অনেকে ‘অঘটন’ বলে দেগে দিলেও অনিল গুপ্তা তা মানতে নারাজ।
তিনি জানান, যেহেতু দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমভাগে লাল ও কৃষ্ণ মৃত্তিকার আধিক্য এবং সেই হিসেবে মুম্বইয়ের পিচও লাল মাটির হয়ে থাকে, তাই জম্মু-কাশ্মীরে থাকাকালীন খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ধরনের লাল ও কালো মাটির ক্রিজ তৈরি করেন তাঁরা। জম্মুর জিজিএম সায়েন্স কলেজের মাঠে প্রস্তুতি সেরেছিলেন আব্দুল সামাদরা। সেখানে তাঁদের নেট প্র্যাকটিস হত বিশেষভাবে বানানো পিচেই। এমনকী কোনও গাফিলতি না রাখার চিন্তা করে, ম্যাচের ১০ দিন আগেই মুম্বই এসে পৌঁছয় জম্মু-কাশ্মীরের রঞ্জি টিম। লক্ষ্য ছিল স্থির। ‘ব্যতিক্রমী’, ‘অঘটন’ গোছের ট্যাগ মুছে ফেলে একটা স্থায়ী জমি বানানো। মুম্বইকে চলতি রঞ্জিতে হারিয়ে, তাদের খাদের কিনারায় এনে, বলা যেতেই পারে, পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন জম্মু-কাশ্মীরের খেলোয়াড়রা।