দ্য ওয়াল ব্যুরো: হার শব্দটি তাঁর অভিধানে নেই, তবুও পিছিয়ে আসছেন স্বপ্না বর্মণ (Swapna Burman)। এশিয়ান গেমসে (Asian Games) যখন সোনা (Gold) জিতেছিলেন, সেইসময় তাঁর দাঁতের যন্ত্রনা ছিল, চোটও ছিল পায়ে। সেগুলি নিয়ে ভাবেননি, বরং কী করে প্রতিকূলতা ঠেলে দেশকে পদক (Medal) এনে দেওয়া যায়, সেই ভাবনা মাথায় ছিল তাঁর।
সেই স্বপ্নার সঙ্গে বর্তমান স্বপ্নার অনেক পার্থক্য, যিনি কলকাতা থেকে বহু দূরে অফিসের কাজে পোস্টিং হয়ে গিয়ে একেবারে একা হয়ে গিয়েছেন। গল্প করার লোক নেই, কী করে জীবনের লড়াইয়ে এগিয়ে যাবেন, তেমনভাবে পথ দেখানোর কেউ নেই। সেই কারণেই জাতীয় ওপেন অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতেও স্বপ্নার মুখে অবসরের কথা।
অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়ারাঙ্গেলে ৬০তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের আসর বসেছে। সেখানে হাইজাম্পে সোনা জিতেছেন স্বপ্না। অবসরের নেওয়ার কারণ, ক্রমাগত চোট আঘাতে জর্জরিত হয়ে যাওয়াকেই পরোক্ষে দায়ী করেছেন উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলওয়েজের কর্মী স্বপ্না।
পিঠের ব্যথাতে মানসিক অবসাদে ভোগার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী স্বপ্না জাতীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হওয়ার পরপরেই অবসর ঘোষণা করবেন বলে ভাবনাচিন্তা করছেন। ওয়ারেঙ্গালে সোনা জয়ের পরেই এ কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: যা চেয়েছিলাম, সব পেয়েছি, আর কী চাই! এবার সরে যাওয়ার ইঙ্গিত শাস্ত্রীর
আচমকা মাত্র ২৪ বছর বয়সে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিচ্ছেন তিনি? সরে দাঁড়াচ্ছেন তাঁর পিঠের চোটের কারণে। তিনি হতাশ হয়ে জানিয়েছেন, “আমার শরীর আর নিতে পারছে না। মানসিক দিক দিয়ে আমি খুব বিপর্যস্ত। তাই আমার পক্ষে ব্যাপারটা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে না।” স্বপ্না তার মধ্যেই বলেছেন, “বিভ্রান্ত আমি। তবে ৮০-৯০ শতাংশ মানসিক দিক দিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আর ট্র্যাকে ফিরব না। এটা ঘোষণা করব কিছুদিনের মধ্যে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার পর।”
তিনি আরও বলেন, “আমি জাতীয় ওপেন প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে চাইনি। কিন্তু রেলের কাছে আমি টুর্নামেন্টে নামতে দায়বদ্ধ। সেই জন্যই এখানে নেমেছি।”
বাড়িতে বেআইনিভাবে কাঠ মজুতের অভিযোগে গত বছর তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। এই ঘটনায় তিনি ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বারবার। স্বপ্না এবারও বলেন, ‘‘আমাকে নিয়ে অনেকেই হিংসে করে, তাই এমন করেছে। যে মা আমাকে এত বড় করল, তাঁকে জেরা করেছে। এটা আমার কাছে অপমান। আমার এসব আর ভাল লাগছে না, আমি ছেড়ে দিয়ে পরিবারকেই সময় দেব।’’
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'