
মনোজ তিওয়ারি ও মহেন্দ্র সিং ধোনি
শেষ আপডেট: 27 January 2025 19:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্তার ইচ্ছাই কর্ম। অধিনায়কের ইচ্ছাই শেষ কথা। যার জেরে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার ধাক্কা খেয়েছে। খতম হয়ে গেছে দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন। ঘুরিয়ে হলেও প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকেই ‘অবিচারে’র ভাগীদার বলে দেগে দিলেন মনোজ তিওয়ারি। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এসে ধোনির জমানা, দল নির্বাচনের রাজনীতি ও কূটনীতির পাশাখেলা নিয়ে বেশ কিছু তির্যক মন্তব্য ছুড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার।
২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে ২০১১-র বিশ্বকাপ। এ ছাড়াও ২০১৩-র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো খেতাব। ধোনির জমানায় সাফল্যের তুঙ্গ স্পর্শ করেছিল ভারত। উঠে এসেছিলেন, সুযোগ পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, সুরেশ রায়নার মতো একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। আর এই উজ্জ্বল, দীপ্ত কিছু মুখের ভিড়ে হারিয়ে গেছেন যে সমস্ত প্রতিভা, যাঁদের সুযোগ পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে ক্রমাগত ঘনিয়ে উঠেছে বিতর্ক, মনোজ তিওয়ারি তাঁদের অন্যতম।
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৫-র জুলাই। ৭ বছরে দেশের হয়ে মোট ১২টি ওয়ান ডে ও ৩টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছিলেন মনোজ। ২০০৬ সালে রঞ্জিতে বাংলার হয়ে তুখোড় ফর্মে ছিলেন তিনি। যার সুবাদে ভারতের হয়ে খেলার ডাক আসে। কিন্তু ব্যাটিং অর্ডারে ক্রমাগত রদবদলের ফলে মনোজ একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিজের দখলে আনতে ব্যর্থ হন। এই সময় একমাত্র বীরেন্দ্র সেহওয়াগ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সাফ দাবি মনোজের। তিনি বলেন, ‘সেহওয়াগ আমার নায়ক। আমি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁর কাছে ঋণী থাকব। তিনি যদি নিজেকে সরিয়ে আমায় জায়গা না দিতেন, তাহলে আমি আজ এই জায়গায় থাকতাম না। আসলে বীরু ভাই দেখছিলেন, হয় আমি সুযোগ পাচ্ছি না, নয়তো ব্যাটিং লাইন আপে আমায় একবার উপরে তোলা হচ্ছে, আবার নামানো হচ্ছে নীচে। যেমন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একটি খেলায় আমি ওপেনে ব্যাট করতে নামি। আবার পরেই ম্যাচেই আমায় পাঁচে ঠেলে দেওয়া হয়।‘
ঠিক সেই সময় দ্বিশতরান হাঁকিয়েও স্বেচ্ছায় নিজেকে সরিয়ে নেন সেহওয়াগ। আর জানান, তাঁর জায়গায় যেন মনোজকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। এমনকি তিনি কোন জায়গায় খেলতে স্বচ্ছন্দ, সেটাও জেনে নিয়েছিলেন ‘নজফগড়ের নবাব’। এমনটাই বক্তব্য মনোজের। সেহওয়াগের প্রশ্নের উত্তরে তিনি রঞ্জিতে পছন্দের চার নম্বর পজিশনে খেলার উল্লেখ করেন এবং পরের ম্যাচে সেই জায়গাতেই খেলার সুযোগ পান। ওই ম্যাচে শতরান করেছিলেন মনোজ তিওয়ারি।
এই সময় যখন মনে করা হচ্ছিল, দলের মিডল অর্ডারে ধীরে ধীরে জায়গা পাকা করে ফেলবেন মনোজ, তখনই মুখের উপর বন্ধ হয়ে যায় সুযোগের দরজা। আর এর দায়ভার ধোনির উপরেই চাপিয়েছেন তিনি। মনোজের মতে, ওই পর্বে বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়নাদের মতো অনেক তরুণ খেলোয়াড় তাঁর মতো জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। আর সকলেই কম-বেশি অফ ফর্মের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। অথচ বাদ দেওয়ার বেলায় খাঁড়ার ঘা নেমে আসে একমাত্র তাঁরই উপর।
এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মনোজ তিওয়ারি বলেন, সেই সময় দলের অধিনায়ক ছিলেন ধোনি। আর প্রথাগতভাবে ভারতের ক্রিকেট দল অধিনায়কের অঙ্গলিহেলনেই চলে। ধোনি একা নন। তাঁর আগে কপিল দেব থেকে শুরু করে আজহারউদ্দিন, সৌরভ গাঙ্গুলি ইচ্ছেমতো খেলোয়াড় বেছেছেন। যেটা দলের পক্ষে মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়।
মনোজ যদিও সাম্প্রতিক সময়ে দল পরিচালনা নিয়ে আশার আলো দেখছেন। তাঁর মতে, অজিত আগরকর বিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাচক হিসেবে যথেষ্ট সাহসী কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোচের সঙ্গে তাঁর মতান্তরও হয়েছে। আগে এমন পরিস্থিতি ছিল না। নয়তো একটি সেঞ্চুরি করার পরেও একজন উঠতি খেলোয়াড়কে কেন ১৪ ম্যাচের জন্য বাদ দেওয়া হবে? এই প্রশ্ন তখন তিনি তুলতে পারেননি। কারণ সেই সময় তরুণেরা কোনও বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাঁদের ফল ভোগ করতে হত। আর তাই তিনি তখন চুপ ছিলেন। এখন এত বছর বাদে আকস্মিকভাবে মুখ খোলার সপক্ষে এমনই যুক্তি দিয়েছেন মনোজ।