দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) দুই প্রাক্তনীর মধ্যে সংঘাত শেষ হয়েও হচ্ছে না। আবারও আসিয়ানজয়ী কোচ সুভাষ ভৌমিক (Subhash Bhowmik) তীব্র আক্রমণ করলেন অনুজ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যকে (Manoranjan Bhattacharjee)। এর আগে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা লাগে চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে। সেবার মনোরঞ্জন চুক্তির পক্ষে কথা বললেও সুভাষ ছিলেন বিপরীত মেরুতে। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রকাশ্যে সংঘার লেগেছিল।
সেই রাগ যে যায়নি, সেটি ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন সুভাষ। তিনি একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘কে মনোরঞ্জন? আমার মতো কোচ হয়ে এত ট্রফি জিতেছে? এত কথা বলে কী করে! মনা তো আমাকে ধরে ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেন হয়েছিল সাফ কাপে। সেবার তো মনাকে সাসপেন্ড করে দিয়েছিল ফেডারেশন। আমি প্রিয়দা-কে (প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি) বলে ওর সাসপেনশন তুলিয়েছিলাম, আমার হাতে-পায়ে ধরেছিল, সে এত কথা বলছে কেন আমার নামে?’’
আরও পড়ুন: বানভাসি শহরে কলকাতা মাঠের সব খেলা বাতিল, যা হল কল্যাণী স্টেডিয়ামে
সুভাষ আরও বলেছেন, তিনি ইস্টবেঙ্গলে কোচ হয়ে যা কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তা পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ও কোচ হিসেবে পারেননি। তিনি যে ৩-৫-২ ফর্মেশনের জনক ময়দানে, সেটিও ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন নামী প্রাক্তন কোচ। শুধু তাই নয়, ময়দানের শেষ বলপ্লেয়ার তুষার রক্ষিতের আবিষ্কারক তিনি, সেটিও বুক বাজিয়ে বলেছেন ময়দানের বিতর্কিত প্রাক্তন ফুটবলার তথা কোচ।
সুভাষের বক্তব্য, ‘‘আমার মতো ক্লাব কোচ হিসেবে দুটি আন্তর্জাতিক ট্রফি কে পেয়েছে, তার নাম বলুন তো? কেউ পাইনি, আমার রেকর্ডই বলবে আমি কেমন কোচ।’’
সব থেকে বড় কথা, ইস্টবেঙ্গল কোচ হিসেবে মোহনবাগানের কাছে ৫-৩ গোলে হেরেছিলেন, কিন্তু সেই হারের দায় নিতে রাজি নন এখনও। সুভাষ বলেছেন, ‘‘আমি তো হারিনি, আমাকে হারিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হয়েছিল। তাতে সামিল ছিলেন কর্তারা, কিছু ফুটবলারও। প্রথম দলের সাত ফুটবলার সেই ম্যাচে ছিল না, তাতে আমার কী করার আছে!’’
এমনকি ২০১৫ সালে সঞ্জয় সেনের হাত ধরে মোহনবাগানের আই লিগ খেতাবকেও তিনি নিজের কৃতিত্ব বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, আমি যা করে দিয়েছিলাম, তারওপর কাজ করে সাফল্য পেয়েছে সঞ্জয়। এমনকি কোচ হিসেবে তিনি শঙ্করলালকে তৈরি করেছেন, সেটিও জানিয়েছেন সাক্ষাৎকারে।
সুভাষ নিজের ইচ্ছেয় যে এ লাইসেন্স কোচিং ডিগ্রি নেননি, তাও জানিয়েছেন। আমি যাঁর অধিনে কোচিং ডিগ্রি নেব, সে আমার থেকেও অশিক্ষিত, তাতে কী হবে ডিগ্রি নিয়ে? পাশাপাশি এও বলেছেন, সুব্রত ভট্টচার্যকে ইচ্ছে করে স্যাভিও মেদেইরা এ লাইসেন্স দেননি, তাও সরাসরি বলেছেন সুভাষ।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'