দ্য ওয়াল ব্যুরো: খেলার মাঠে জাতপাত, সেখানেও ছোট জাত, বড় জাতের নিয়ম। তাও এমন একটি দেশে, যেখানে ক্রিকেটকে সর্বজনীন খেলা বলে মনে করা হয়। আদৌ তা নয়, কারণ সব শ্রেণীর মানুষ ক্রিকেটে আসক্ত নয়। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা এতটাই বিদ্যমান যে সেখানে জাতের বিষয় এলে, ধর্মের বিষয় এলে অবাক হতে হয়।
ঠিক সেটাই ঘটেছে হায়দরাবাদে এক ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টে। সেই টুর্নামেন্টের আগে নিজামের শহরের বিভিন্ন জায়গায় একটি হোর্ডিং দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন ক্লাবে আমন্ত্রনী পাঠানো হয়েছে, যেখানে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে দল গড়তে হবে ব্রাক্ষ্মণদের নিয়ে। নিচু জাতের সেই টুর্নামেন্টের প্রবেশ নিষেধ।
জানা গিয়েছে, চারমিনার সিটিতে মহম্মদ আজহারউদ্দিন, ভিভিএস লক্ষ্মণদের খাস-তালুকে নাগোল এলাকার বিএসআর স্টেডিয়ামে গত ২৫ এবং ২৬ ডিসেম্বর আয়োজিত হওয়ার কথা ছিল ওই টুর্নামেন্টের। ৩৫০০ টাকা ছিল প্রবেশমূল্য। তবে টুর্নামেন্টের পোস্টারটি ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। কারণ ওই পোস্টারে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, কেবল ‘ব্রাহ্মণ’রাই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন।
শুধু তাই নয়, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই নিজস্ব পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়, যাতে সহজেই তাঁদের পরিচয় জানা যায়। সেটিও নোটিশে লেখা ছিল। শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে এটি নিয়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদও শুরু হয়েছে।
সব থেকে বড় বিষয়, এই নোটিশটি কোনওভাবে কেউ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দিয়ে দেয়। সেটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে সবাই কমেন্টস করেছেন, এটা কী কোনও সভ্য দেশের নিদর্শন হতে পারে? এমনকি হায়দরাবাদের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা এটি নিয়ে এদিন তাদের খবরও ছাপিয়ে দিয়েছে।
আর তারপরই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ঝড় উঠেছে। অনেকেই বিষয়টিকে ভালভাবে নেননি। অনেকেই এজন্য আয়োজকদের কাঠগড়ায় তোলেন। আদৌ সেই টুর্নামেন্টটি হবে কিনা সেই নিয়ে বিশ বাঁও জলে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে একজন অবশ্য দাবি করেছেন, এই টুর্নামেন্ট গত কয়েকবছর ধরেই চলে আসছে, আর সেই একই নিয়ম। কিন্তু সেটির সত্যতা কেউ মানতে চায়নি। বলা হয়েছে, ব্রাক্ষ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এমন কোনও ধর্মের কথা কোনও খেলার নিয়মে নেই। তা হলে একটা উন্নত দেশের কোনও এক শহরের কোনও টুর্নামেন্টের আয়োজকদের পক্ষে এমন পদক্ষেপ কেন হবে?
আরও চমকপ্রদ বিষয়, ভারতীয় ক্রিকেটে এমন ভুরি ভুরি নিদর্শন রয়েছে, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় থেকেও নামী অনেক ক্রিকেটার উঠে এসে জাতীয় দলে পর্যন্ত খেলেছেন, দেশকে গর্বিত করেছেন তাঁদের দক্ষতা দিয়ে। সেখানে কেন এমন একটি উঁচুবর্ণের নাম করে টুর্নামেন্ট করা হবে।