দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি রানে ফিরেছেন মানে ক্রিকেট দেবতার মুখেও হাসি। বিরাট কোহলির ব্যাটে রানের খরা দেখে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ভাবতে শুরু করেছিলেন, কী হল তাঁর? কেন তিনি রান পাচ্ছেন না? প্রথম তিনটি ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের দলনেতা ২৯ বল খেলে করেছিলেন মাত্র ১৮ রান।
শনিবার রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে কোহলির ৫৩ বলে ৭২ রানের ইনিংস দেখে সবাই ভাবছেন, এই তো এটাই বিরাট কোহলি, যাঁকে আমরা দেখতে চাইছিলাম স্বমেজাজে। তাঁর হার না মানা ইনিংসেই স্টিভ স্মিথদের ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় জয়টি পেয়েছে ব্যাঙ্গালোর।
অবশেষে রান পাওয়ার পরে বিরাটের মুখেও হাসি। বোঝাই যাচ্ছে তিনিও চাপে ছিলেন সমালোচনায়। পুরস্কার মঞ্চে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন তিনি। একবার বলেছেন, ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অগাধ প্রেম, আবার পরেই জানিয়েছেন এই খেলার প্রতি তাঁর সমান বিদ্বেষও রয়েছে। তিনি এও বলেছেন, আমি খেলার মধ্যে এই নিয়ে জস বাটলারের সঙ্গে এটা নিয়ে কথাও বলি।
বিজয়ী দলের অধিনায়ক হিসেবে কথা বলতে গিয়ে কোহলি বলেছেন, ‘‘জানেন, এটা (ক্রিকেট) খুবই মজার খেলা, সত্যিই অন্যরকম। আমি ব্যাটিং করার সময় মাঠেই জস বাটলারকে বলছিলাম, এই খেলাকে অনেক ভালবাসি, আবার ঘৃণাও করি।’’
এসময় খেলাটির ব্যাপারে বিশদ বুঝিয়ে তিনি আরও জানান, ‘‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে আপনাকে এটা বুঝতে হবে, যখন আপনি অনেক বেশি খেলার মধ্যে থাকেন, তখন একসময় এমন মনে হবে যে, কোনওকিছুই যেন আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই। এর সঙ্গে আপনার হতাশা আরও বাড়বে যদি দলও ভাল করতে না পারে। তবে দল ভাল করতে থাকলে আপনার মনে হবে, সবকিছুই আমার মনের মতোই চলছে, তখন মনে হবে খেলাটাও আপনাকে কত ভালবাসেন।’’
প্রথম তিন ম্যাচে একদমই রান পাননি কোহলি। তবুও দলের কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক পর্যন্ত কেউই তাঁর ওপর আস্থা হারাননি। বরং বারবার বলেছেন, দ্রুতই ফর্মে ফিরবেন কোহলি। যার ঝলক দেখা গেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে সুপার ওভারেই।
কোহলি রান পাওয়ার পর আরসিবি কোচ সাইমন ক্যাটিচ বলেছেন, ‘আমরা একবারের জন্যও ভাবিনি যে কোহলি ফর্মে নেই। নেটে ওর ব্যাটিং বেশ ভাল হচ্ছিল। হায়দরাবাদের বিপক্ষে ভালো শুরু করেছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত ইনিংস বড় হয়নি। আমার মনে হয়, মুম্বইয়ের বিপক্ষে সুপার ওভার এখানে অনেক কাজে দিয়েছে। যেখানে সে উইনিং শট নিয়ে আমাদের জিতিয়েছে। আমরা জানি সে কতটা পেশাদার। নিজের খেলার উন্নতির জন্য সবসময় কঠোর পরিশ্রম করে যায়।’’
নিজে ফর্মে ফেরার পাশাপাশি দল ভাল করলেও, উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চান না কোহলি। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারের উপলব্ধি, ‘‘এই টুর্নামেন্টের ধরনই এমন যে, যে কোনও সময় আপনি পিছিয়ে পড়তে পারেন। অতীতে এমনটা দেখেছি আমরা। তাই ভাল শুরুর পরে সেটা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত যাওয়াটাই বড় বিষয়। আমাদের পরিকল্পনা সহজ। মাঠে সেটা বাস্তবায়ন করাই এখন মুখ্য।’’
আইপিএলের ইতিহাসে নতুন মাইলফলকও স্থাপন করেছেন কোহলি। টুর্নামেন্টের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়েছেন সাড়ে ৫ হাজার রানের রেকর্ড। আইপিএলে মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যানের রয়েছে ৫ হাজারের বেশি রানের কীর্তি। এদের মধ্যে শুধুমাত্র বিরাট কোহলিই পৌঁছে গেছেন সাড়ে ৫ হাজার রানের ঘরে।
আইপিএলে সর্বোচ্চ রানমেশিন:
১) বিরাট কোহলি - ১৭৩ ইনিংস ৫৫০২ রান, সর্বোচ্চ ১১৩;
২) সুরেশ রায়না - ১৮৯ ইনিংস ৫৩৮ রান, সর্বোচ্চ ১০০;
৩) রোহিত শর্মা - ১৮৭ ইনিংস ৫০৬৮ রান, সর্বোচ্চ ১০৯;
৪) ডেভিড ওয়ার্নার - ১৩০ ইনিংস ৪৮২১ রান, সর্বোচ্চ ১২৬;
৫) শিখর ধাওয়ান - ১৬২ ইনিংস ৪৬৭৪ রান, সর্বোচ্চ ৯৭*