দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল হলুদের কোচ হয়ে তো এসেইছেন, উপরন্তু তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন চার ফুটবলারকে, যাঁরা প্রত্যেকেই এর আগে প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন। এমনকি রবি ফাউলার শেষ যে দলে কোচিং করতেন, সেই অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন রোয়ার ক্লাবের হয়ে খেলতেন স্কট নেভিল, ড্যানি ফক্সের মতো তারকারা।
ওরা না হয় ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলার, কিন্তু মোহনবাগানের ব্র্যাড ইনম্যানকেও আনার পিছনে লাল হলুদের হেডস্যার ফাউলারই। তিনি ভারতে এসেই বলেছিলেন, আইএসএল নিয়ে আমাকে ধারণা দিয়েছেন আমার স্যার ফাউলারই, তিনি আমাকে শেষ কোচিং করিয়েছেন গতবছরই অস্ট্রেলিয়ায়।
সেই ছাত্রের বিপক্ষে নামছেন শিক্ষক, আবার ঘুরিয়ে বলা যায়, শুক্রবার ডার্বিতে লড়াই গুরু ও শিষ্যের, আর অন্য দেশে এসে বড় ম্যাচ জিতে মোহনবাগানের ইনম্যান গুরুদক্ষিণা দিতে চান প্রতিপক্ষ কোচ ফাউলারকে। সবুজ মেরুনের মাঝমাঠের এই অস্ট্রেলীয় তারকা জানিয়েছেন, ‘‘স্যারই আমাকে তুলে এনেছেন কলকাতায়, তবে আমি খেলছি তাঁরই বিপক্ষ ক্লাবে, এটাই আমার লড়াই, আমি জিতে স্যারকে উপহার দিতে চাই বিশেষ কিছু।’’
গত মরসুমেই যিনি নিজের কোচ ছিলেন, তিনিই একটা বছরের মধ্যেই অন্য দলের কোচ, তাও আবার চিরপ্রতিপক্ষ ক্লাবের। কী মনে হয়? ‘‘আমি পেশাদার ফুটবলার, আর স্যারের পরামর্শেই আমি এটিকে-মোহনবাগানে যোগ দিয়েছি, তাও খারাপ লাগার কোনও ব্যাপার নেই।’’ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইনম্যান। যিনি মাঝমাঠে থেকে খেলাকে পরিচালনা করেন, তাঁর পাস থেকেই গোল করেন রয় কৃষ্ণরা।
মোহনবাগানের অন্য দুই বিদেশী তারকা তিরি ও এডু গার্সিয়া মনে করছেন, অচেনা বিপক্ষ সবসময়ই ভয়ঙ্কর, কেননা ইস্টবেঙ্গলের বিদেশীদের খেলা তাঁরা দেখেননি, তাই ম্যাচে কী করবেন, আগে থেকে বুঝতে পারছেন না।
তিরি যেমন এটিকে-মোহনবাগান মিডিয়া প্রতিনিধিকে বলেছেন, ‘‘আমি আইএসএলে ছয়বছর খেলছি, তাই ভারতীয়দের সম্পর্কে ধারণা রয়েছে, কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের বিদেশীদের আমি চিনি না, সতর্ক হয়েই মাঠে নামতে হবে। কোচ আমাদের কৌশল বলে দিয়েছেন। আর ডার্বিতেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে তিন পয়েন্ট নিয়ে ফেরা।’’
রয় কৃষ্ণের গতদিনের সঙ্গী এডু গার্সিয়া তেমন ছন্দে ছিলেন না। তিনিও তাকিয়ে ডার্বিকে স্মরণীয় করে রাখতে। সেই কারণেই সদম্ভে বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই জয়। গত ম্যাচে কেরলকে হারিয়েছি বলে একটা আত্মবিশ্বাস রয়েছে, সেটিকেই শুক্রবার কাজে লাগাতে চেষ্টা করব। তবে যেহেতু ওদের অনেক ফুটবলারের খেলা দেখিনি, তাই সতর্ক থাকবে হবে।’’