দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকেই বলে থাকেন, দিয়েগো মারাদোনার সর্বনাশের মূলে ছিল নাপোলি। এখানে যে তিনি সাতবছর খেলেছিলেন, এই সময়ে তিনি প্রথম মাদক সেবন করেছিলেন, এই সময়ের মধ্যে তিনি একাধিক নারীসঙ্গে আসক্ত হয়ে যান। নাপোলি নাকি চায়নি মারাদোনা অন্য ক্লাবে খেলুন, সেই কারণেই তাঁর সর্বনাশের সিঁড়ি পেতে রেখেছিল ইতালির ক্লাবটি।
আবার অন্যজনেরা বলেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, মারাদোনা মারাদোনাই হতেনই না যদি নাপোলিতে খেলতে আসতেন। তিনি এখানে একটি সুন্দর পরিবেশ পেয়েছিলেন। ভাল কোচ, ভাল সতীর্থ, ভাল কর্তাদের সান্নিধ্যে তিনি তৃপ্ত হতেন, বেরিয়ে আসত তাঁর খেলার নানা রত্নভান্ডার।
একথা অবশ্য অস্বীকার করা যাবে না, নাপোলিকে বিশ্বের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। ইতালির ফুটবলের পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের এক ক্লাবকে জুভেন্টাস, এসি মিলানের সঙ্গে লড়ার সাহস দেখিয়েছেন ফুটবলের রাজপুত্র। এ ক্লাবটি তাই বরাবর তাঁকে হৃদয়ের সর্বস্ব দিয়ে ভালোবেসেছে। এই ক্লাবটি জানে মারাদোনা না থাকলে নাপোলিকে কেউ চিনত না।
গত ২৫ নভেম্বর রাতে মারাদোনার মৃত্যুর খবর প্রকাশ পেতেই ইতালির এই ক্লাবটি স্টেডিয়ামের সব আলো জ্বালিয়ে দিয়েছিল। সম্মান তো বটেই, পাশাপাশি ক্লাব কর্তাদের দীর্ঘ বিশ্বাস ছিল, দিয়েগো উপর থেকে নিশ্চয়ই আলো ঝলমল নাপোলি স্টেডিয়ামটি দেখবেন।
স্টেডিয়ামের নাম বদলের কথাও সেদিনই প্রথম উঠেছিল। দিয়েগোকে শেষ বিদায় জানানোর এক সপ্তাহ না জেতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে নেপলস। আজই শনিবার স্তাদিও সান পাওলোর নাম স্তাদিও দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শহরটি।
আজ নেপলস সিটি কাউন্সিলে সকলের সম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে মারাদোনার শেষ বিদায়ের পরেই শহরের মেয়র লুইগি ডি ম্যাজিস্ত্রিস নামকরণের প্রস্তাব দেন, সেই প্রস্তাব সিটি কাউন্সিলে পাস হয়ে গেছে।
কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিয়েগো মারাদোনার অসীম প্রতিভা ও জাদু দিয়ে সাত বছর এই নাপোলির জার্সিকে সম্মানিত করেছেন তিনি। দুটি ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়নশিপ উপহার দিয়েছে এবং অন্যান্য গৌরবময় কাপ জিতিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে শহরের চিরস্থায়ী ভালোবাসা জিতে নিয়েছেন।’’
১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নাপোলিতে ছিলেন ফুটবল ঈশ্বর। শুধু ফুটবল মাঠেই যে মন জিতেছেন তা নয়, শহরের অলিগলিতে অসহায় মানুষের ভালোবাসা জিতে নিয়েছিলেন তিনি। কোনও অসহায়কে রাস্তায় দেখতে পেলে তিনি তাঁর সেবা করার অর্থ দিতেন।
কিংবদন্তির চিরবিদায়ের পরে সেই ভালবাসার প্রতিদানও নাপোলি ফিরিয়ে দিল তাঁদের নায়ককে। মারাদোনাও বলতেন, বুয়েনস আয়ার্স যদি তাঁর প্রথম ঘর হয়, সেকেন্ড হোম অবশ্যই ছিল নাপোলি।