দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় তিরন্দাজের তারকা দম্পতির সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে গেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর। বিশ্বকাপজয়ী এম এস ধোনির দলের এই সদস্য বিজেপি সাংসদও। তিন নিজ ক্ষমতা বলে দিল্লি ডেভলপমেন্ট অথোরিটি (ডিডিএ)-কে চিঠি দিয়েছেন, যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের নামকরণ প্রাক্তন নামী স্পিনার অনিল কুম্বলের নামে করা হোক।
২০১০ সালে দিল্লিতে কমনওয়েলথ গেমসের সময় এই কমপ্লেক্সে তিরন্দাজির আসর বসেছিল। কিন্তু গম্ভীরের যুক্তি, কুম্বলে শেষ টেস্ট ম্যাচ কোটলাতে খেলেছেন, আর এই মাঠেই তিনি একবার পারফেক্ট টেন করেছিলেন দশ উইকেট নিয়ে। তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য এটাই শ্রেষ্ঠ পন্থা।
গম্ভীরের এই যুক্তি মানতে চাননি ভারতের দুই তারকা তিরন্দাজ অতনু দাস ও তাঁর স্ত্রী নামী তিরন্দাজী দীপিকা কুমারিও। তাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। দীপিকা যেমন জানিয়েছেন, ‘‘এই স্পোর্টস কমপ্লেক্স ভারতের সব তিরন্দাজির প্রিয় জায়গা, কারণ এখানে আমরা সারাবছর প্র্যাকটিস করতাম। ভারতীয় দলের শিবিরও হত এই স্থানে। তাই আমরা চাই নামকরণ যদি হয়, তা হলে সেটি কিংবদন্তি প্রাক্তন তিরন্দাজ পদ্মশ্রী লিম্বা রামের নামে।’’
দীপিকার স্বামী অলিম্পিয়ান বাংলার ছেলে অতনুও বলেছেন, ‘‘আমরা অনিল কুম্বলে স্যারের অবদানকে অসম্মান করছি না। কিন্তু তিনি ক্রিকেটার, তাঁর নামে কোনও ক্রিকেট মাঠের ব্লক কিংবা আস্ত একটা স্টেডিয়ামের নামকরণও হতে পারে। সেই সুযোগ তাঁর ক্ষেত্রে রয়েছে। কিন্তু যিনি ভারতের তিরন্দাজের নাম বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই লিম্বা রামের প্রতি যদি আমরা এটুকু না করি, তা হলে অবিচারের শেষ থাকবে না। তাই আমার মতো দেশের বাকি তিরন্দাজরাও চান লিম্বা রামের নামে যমুনা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের নামকরণ হোক।’’
সব থেকে মজার বিষয়, কেন্দ্রীয় আদিবাসী উন্নয়ণ মন্ত্রী অর্জুন মুন্ডা নিজে ভারতীয় তিরন্দাজ সংস্থার প্রেসিডেন্ট, তিনিও তাঁর দলের সাংসদ গম্ভীরের বক্তব্য মানতে রাজি নন। তিনি নিজের সংস্থার পক্ষেই কথা বলেছেন। মন্ত্রীর যুক্তি, গৌতমের এই দাবি কখনই ঠিক নয়। তিনিও ওই কমপ্লেক্সের নামকরণ লিম্বার নামেই চান।
এমনকি দিল্লি উন্নয়ণ পর্ষদে গম্ভীরের এই দাবি নিয়ে হাসাহাসিও চলছে। বলা হচ্ছে, ফিরোজ শাক কোটলাকে যখন প্রয়াত মন্ত্রী অরুণ জেটলির নামে করা হল। সেইসময় তিনি চুপ করে থাকলেন, আর যে কমপ্লেক্সে ক্রিকেটের কোনও নামগন্ধই নেই, তিনি তার নামকরণ করতে চান একজন ক্রিকেটারের নামে।
গম্ভীর যে দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন, সেটিও কথা প্রসঙ্গে উঠে আসছে। আর এখানেই জয়ী অতনু ও দীপিকা। তাঁদের এই প্রতিবাদের লড়াই স্বীকৃতি পাবে কিনা, সেটাই এখন দেখার।