দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ টেস্ট বোলারের তকমা লেগে গিয়েছে তাঁর গায়ে। ভারতীয় টেস্ট দলে তাঁর জায়গা পাকা। একদিনের দলেও মাঝেমধ্যে তাঁর সুযোগ মেলে। কিন্তু ভারতের টি ২০ দলে বহুদিন খেলেননি মহম্মদ শামি। তারপরেও টি ২০ ক্রিকেটে যে তিনি দাপট দেখাতে পারেন তা আরও একবার প্রমাণ করলেন শামি। দিল্লির বিরুদ্ধে তাঁর বোলিং দেখে হতবাক ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাসকারও। শামিকে কিংবদন্তি ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার ম্যালকম মার্শালের সঙ্গে তুলনা করলেন তিনি।
দিল্লির বিরুদ্ধে রবিবার দুবাইয়ে চার ওভার বল করে ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন শামি। তাঁর শিকার পৃথ্বী শ, শিমরন হেটমায়ের ও শ্রেয়স আইয়ার। শামির বলেই রান আউট হন শিখর ধাওয়ানও। শামির আগুনে পেস ও উইকেটের বাউন্স ব্যবহার করে বোলিংয়ের জবাব কারও কাছে ছিল না। আইপিএলেও নিখুঁত পেস বোলিং লেন্থে বল করলেন শামি। আর তাতেই সফল তিনি।
ম্যাচের ধারাভাষ্য দিচ্ছিলেন সুনীল গাভাসকার। প্রথম ওভার থেকেই শামির বাউন্সার সামলাতে পারছিলেন না দিল্লির কোনও ব্যাটসম্যানই। আর এই বাউন্সার দেখেই হতবাক গাভাসকার। তাঁর এই বাউন্সারকে ম্যালকম মার্শালের সঙ্গে তুলনা করেন গাভাসকার। তিনি নিজে মার্শালের সঙ্গে অনেক ম্যাচ খেলেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রাস বোলিং ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন তিনি। তাঁর বাউন্সারে পা কাঁপত দুনিয়ার সব ব্যাটসম্যানদেরই। আর তাই গাভাসকারের মতো ব্যাটসম্যান জানেন কতটা ঘাতক ছিল তাঁর বাউন্সার। শামিকে সেই একই ব্র্যাকেটে ফেললেন গাভাসকার।
যত দিন যাচ্ছে তত যেন ক্ষুরধার হচ্ছে শামির বোলিং। তাঁর বলের সিম পজিশন ও সুইং দেখে অবাক হন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সাফল্যের পিছনে অন্যতম বড় কৃতিত্ব শামির। বিরাট কোহলির বোলিং ব্রিগেডের সেরা অস্ত্র বাংলার এই পেসার। গতি তাঁর আগেই ছিল, তার সঙ্গে যত দিন যাচ্ছে তত নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে ভারতের এই পেসারের। আর তার ফলেই আরও বেশি ভয়ানক হয়ে উঠছেন তিনি।
চলতি বছর সংযুক্ত আরিব আমিরশাহীতে হচ্ছে আইপিএল। এমনিতেই এখানকার উইকেট একটি স্লো। ফলে স্পিনাররা বেশি সুবিধা পান। কিন্তু শুরুর দুটি ম্যাচে দেখা গেল, ফাস্ট বোলাররা উইকেট থেকে বেশ ভাল বাউন্স পেয়েছেন। হয়তো টুর্নামেন্টে যত এগোবে, তত স্লো হবে উইকেট। কিন্তু শুরুর দিকে উইকেটের বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে আগুন ঝরাচ্ছেন পেসাররা। সেই একই ভূমিকায় দেখা গেল মহম্মদ শামিকে। আর তাতে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ম্যালকম মার্শালের সঙ্গে তুলনা করলেন সুনীল গাভাসকার।