দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেট ড্রেসিংরুমে এই মুহূর্তে মধ্যমনি দুই টেলএন্ডার ব্যাটসম্যান। একজন, শার্দুল ঠাকুর, অন্যজন ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁদের ব্যাটিং জুটির প্রশংসা করেছেন খোদ ক্রিকেটের আইকন সুনীল গাভাসকার। তিনি ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, আমি ভেবেছিলাম বেশি ক্ষণ হয়তো ওরা খেলতে পারবে না। তবে, এ ভাবে খেলে যাবে তা ভাবিনি। এই পার্টনারশিপ অনুপ্রেরণা দেবে। শুধু উইকেটে পড়ে থাকেনি ওরা। সুযোগ পেলে রানও তুলেছে।’’
সানি আরও বলেছেন, ‘‘অনেকেই ভারতীয় দলে খেলার জন্য স্বপ্ন দেখে। এই তরুণ ক্রিকেটার যেটা করলে তা সত্যিই প্রশংসার বিষয়। বিদেশের মাঠে ওদের এই ব্যাটিং মনে থাকবে। হয়তো অভিজ্ঞরা ফিরলে দলে আর সুযোগ পাবে না শার্দুল ও সুন্দর। কিন্তু ওরা প্রমাণ করল তৈরি রয়েছে।’’
ঋষভ পন্থ রবিবার যখন আউট হলেন, সেইসময় দলের রান ছিল ১৮৬ রান, হাতে চার উইকেট। সবাই ভেবেছিলেন ২০০ রানের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে ভারতের প্রথম ইনিংস। কিন্তু শার্দুল ঠাকুরের ৬৭ এবং ওয়াশিংটন সুন্দরের (৬২) রান লড়াইয়ে ফেরায় ভারতকে।
সপ্তম উইকেটে ১২৩ রানের রেকর্ড পার্টনারশিপ গড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন শার্দুল এবং ওয়াশিংটন। ১৯৯১ সালে কপিল দেব এবং মনোজ প্রভাকর সপ্তম উইকেটে করেছিলেন ৫৮ রান। সপ্তম উইকেটে গাব্বায় সেটাই ছিল ভারতের সব চেয়ে বড় পার্টনারশিপ। সেই রেকর্ড রবিবার ভেঙে দিলেন শার্দুল-ওয়াশিংটন। ২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন কপিলদের রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে এসেও পারেননি। তাঁরা ৫৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন সেবার।
১৯৪৭-৪৮ সালের সিরিজে ভারতের দাত্তু ফাড়কর সিডনির মাঠে ৫১ রান এবং ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। অভিষেক ম্যাচে এই কীর্তি গড়া একমাত্র ভারতীয় ছিলেন তিনিই। সেই তালিকায় এবার চলে এলেন ওয়াশিংটনও। অভিষেক ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি এবং ৩ বা তার বেশি উইকেট, এমন অনন্য রেকর্ড রয়েছে সারা বিশ্বে মাত্র ১০জন ক্রিকেটারের।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অভিষেক ম্যাচে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে হাফ সেঞ্চুরি করা ওয়াশিংটন ভাঙলেন ১১০ বছরের পুরনো রেকর্ড। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঙ্ক ফস্টার ছিলেন এতদিনের সর্বোচ্চ রানের মালিক। তিনি সাত নম্বরে নেমে করেছিলেন ৫৬ রান। তাঁর রেকর্ড ভেঙে ওয়াশিংটন করলেন ৬২ রান। তালিকায় শীর্ষে চলে এলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ফুটবলে যেমন নো লুক পাস কিংবা নো লুক গোল রয়েছে, যেগুলি সাধারণত বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকারা করেন, সেটাই ক্রিকেটে করলেন ওয়াশিংটন। তিনি না তাকিয়ে বলকে গ্যালারিতে পাঠিয়েছেন। তারপর আর বলের দিকেও তাকাননি। একেই ক্রিকেটে বলে ‘নো লুক সিক্স’, সেটাই ফিরল এই তরুণ ব্যাটসম্যানের হাত ধরে।