দ্য ওয়াল ব্যুরো: শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গলে প্রবল বিতর্ক। যেদিন রবি ফাউলারকে ফেডারেশন চার ম্যাচের নির্বাসন করল, সেদিনই অন্য বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠল লাল হলুদে। ইস্টবেঙ্গল কোচ ফাউলারের সহকারী তথা দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টনি গ্রান্ট সন্ধ্যেতেই একটি টুইট করেছেন। ওই টুইটে কর্তাদের রীতিমতো তোপ দেগেছেন। এও জানিয়েছেন, ক্লাবের কিছু কর্তাদের অন্তর্ঘাতের কারণেই দলের এই অবস্থা।
ফাউলারের সহকারী এদিন টুইটে লিখেছেন, আমি বেশ ভালই বুঝতে পারছি ক্লাব কর্তাদের একাংশ আমাদের রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলতে চাইছেন। এটা দেখার পরে নিশ্চয়ই আমাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করবেন না। এই অবস্থা মানা যায় না, আমরা ভাবিনি এর মোকাবিলা করতে হবে।’’
তিনি ইনভেস্টরদের পক্ষ নিয়ে আরও লেখেন, ‘‘শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ক্লাবের উন্নতি চেয়ে এখানে সহায়তা করতে এসেছে। তারপরে এরকম মোটেই কাম্য নয়।’’
পরে আরও একটি একটি টুইটারে টনি গ্রান্ট লেখেন, “ইস্টবেঙ্গলে আমরা নতুন হলেও এই ক্লাবের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আমি ওয়াকিবহাল। আইএসএল একটা নতুন মঞ্চ। তাই আমাদের আরও সময় দেওয়া উচিত। হয়তো সমর্থকরাও এটা জানেন।’’
https://twitter.com/Tony11grant/status/1356974048069124096
সব থেকে বড় কথা এই টুইটকে সমর্থন করে আসর জমিয়ে দিয়েছেন শ্রী সিমেন্ট কর্ণধার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হরিমোহন বাঙ্গুর। তিনি টুইটিতে লাইক দিয়েছেন। তার মানে শ্রী সিমেন্টের সমর্থন রয়েছে, তা পরিষ্কার।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি আইএসএলের ফিরতি ডার্বির পর গোয়াতে দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে পারে। ক্লাব ও বিনিয়োগকারীদের এই সমস্যা নিয়ে বিব্রত আয়োজক এফএসডিএল। বিষয়টি যাতে জলঘোলা না হয়, তার জন্য নীতা আম্বানির তরফ থেকে থাকবেন তরুণ ঝুনঝুনওয়ালা। শ্রী সিমেন্টের পক্ষে থাকবেন প্রশান্ত বাঙ্গুর ও তাঁর আইনজীবী। লাল-হলুদের তরফ থেকে থাকবেন সভাপতি ডাক্তার প্রণব দাশগুপ্ত। তবে সেই আলোচনায় বসার আগে বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে ক্লাব।
লোগোর স্বত্ব কিছুতেই ছাড়তে চাইছেন না ক্লাব কর্তারা। কারণ লোগোর স্বত্ব ছেড়ে দিলে পরবর্তী সময়ে লোগো ব্যবহার করার জন্য বোর্ড অব ডিরেক্টরদের কাছ অনুমতি নিতে হবে, যা কর্তারা মানতে পারছেন না। কারণ চুক্তি অনুসারে নতুন বোর্ডে ক্লাবের প্রতিনিধি মাত্র দুজন। সেখানে বিনিয়োগকারীদের তরফ থেকে বোর্ডে থাকছেন আটজন।
দুই, পুরো ময়দান ফোর্ট উইলিয়ামের অধীনে। সেই জন্য বছরে মাত্র ১৬ টাকার বিনিময়ে ইস্টবেঙ্গল সেনা বাহিনীর কাছ থেকে লিজ নিয়ে ক্লাব তাঁবু ব্যবহার করে। সেই অর্থ যায় সরকারের কোষাগারে। লাল-হলুদ সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় পরে। তবে তাদের বিনিয়োগকারীরা পেশাদার সংস্থা। তাই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে তারা জুড়লেও নিজেদের নামে ক্লাব পরিসর ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ, নাম বদল সেনা মানবে না।
তিন, ক্লাব তাঁবু ব্যবহার করা নিয়েও গোলমাল তুঙ্গে। শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ক্লাব কর্তারা এই বিষয়ে শর্ত রেখেছে। লাল-হলুদ কর্তাদের দাবি, বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তারা যেন ক্লাবের একটা দিকে তাদের অফিস তৈরি করে। তাঁবুর বাকি অংশ পূর্বতন কর্তাদের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। এমনকি বৈঠক করতে হবে একটি নির্দিষ্ট স্থানে। সেই দাবিও তোলা হয়েছে। ক্লাবের পুরনো কর্মী, মাঠের মালিদের চাকরি বহাল রাখতে হবে। সেটাও ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে।