দ্য ওয়াল ব্যুরো: সমগ্র বিশ্ব যখন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির স্মৃতির প্রতি নতমস্তকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, সেইসময় একেবারে বিপরীত চিত্র।
এমনটা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। এমনকি এমন যে হতে পারে, সেটিও ভাবতে পারেননি কেউই। কিন্তু যিনি আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁর নামটি যেহেতু দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা, সেই কারণেই মনে হচ্ছে মৃত্যুর পরেও তাঁকে নিয়ে বিতর্ক থাকা স্বাভাবিক বিষয়।
প্রশ্নটা হচ্ছে এমন সময়ে? স্পেনের এক মহিলা ফুটবল লিগে ম্যাচের আগে সবাইকে নীরবতা পালন করতে বলা হয়েছিল। কারণ গত বুধবারই হৃদরোগে প্রয়াত হয়েছেন মারাদোনা। সেই কারণেই ফুটবলের রাজপুত্রের স্মৃতির উদেশ্যে এক মিনিট নীরবতা পালন করতে বলা হয়।
তখনই ঘটে বিপত্তি। পাওলো দাপেনা নামে এক স্প্যানিশ মহিলা ফুটবলার মারাদোনার স্মৃতির প্রতি তাঁকে শ্রদ্ধা না জানিয়ে পুরো ঘুরে বসেন। বাকিরা সবাই দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেছেন, ব্যতিক্রম ওই দাপেনা।
কেন তিনি এমন কিংবদন্তি ও ‘ফুটবলের বরপুত্র’কে অসম্মান প্রদর্শন করলেন? ওই স্প্যানিশ অনামী মহিলা ফুটবলারের দাবি, ‘‘মারাদোনা একজন হেনস্থাকারী ও অত্যাচারীও। তাঁর হাতে বহু মহিলাদের অত্যাচারিত হতে হয়েছে, তিনি সুপারস্টার ও আইকন হয়েও হেনস্থা করেছেন মহিলাদের। তাই আমি ওঁর প্রতি সম্মান দেখাতে পারব না, দয়া করে মাফ করবেন।’’
পাওলো দাপেনার ওই ছবি ভাইরাল হওয়ার পরে তাঁকে খুনের হুমকি পেতে হচ্ছে। মারাদোনার অজস্র ফ্যানদের রোষানলে পড়েছেন ওই মহিলা ফুটবলার। এমনকি তাঁর ক্লাবও শোকজ করে জানতে চেয়েছে কেন তিনি এমনটা করলেন? সেটি লিখিত দিতে বলেছেন।
সব থেকে বড় কথা, ওই মহিলা যখন পিছন ঘুরে অসম্মান দেখাচ্ছেন, সেইসময় তাঁর সতীর্থরাও ওই শোকের আবহে হাসি চাপতে পারেননি। কারোর খুবই দৃষ্টিকুট লেগেছে, কেউ কেউ অনুরোধও করেছিলেন এমনটা না করতে।
এদিকে, মারাদোনার মৃত্যুর পর তাঁর আইনজীবী জানিয়ে ছিলেন, জীবনের শেষ দিকে তিনি নিঃসঙ্গ ছিলেন। মৃত্যুর আগের রাতেও তাঁর পাশে পরিবারের কোনও লোককে দেখা যায়নি। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে তাঁর সম্পত্তির ভাগীদার হতে একাধিক ব্যক্তি হাজির।
ইতালির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মারাদোনার সম্পত্তি নয় নয় করে কম হবে না। এমনকি পরিবারের মানুষরা পাশে ছিলেন না, কিন্তু যেই তিনি চলে গিয়েছেন, ওইসময় তাঁরাও শোক দেখাতে হাজির।
মারাদোনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কম করে রয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। যা কমই, কারণ তাঁর মতো একজন স্টারের এর চেয়ে বেশি থাকার কথা। কিন্তু তিনি সঞ্চয় করতে পারেননি, তাঁর বেহিসেবী জীবনের জন্য।
চিনে রয়েছে তাঁর ফুটবল স্কুল, বুয়েনস আয়ার্সে রয়েছে বিশাল বাংলো প্যাটার্নের বাড়ি। বেশ কিছু বহুতল কিনেছিলেন। তার মধ্যে অনেক বহুতলের মালকিন তাঁর বান্ধবীরা। বি এম ডব্লুউ, অডি, রোলস রয়েসের মতো এরকম ছয়টি গাড়ি রয়েছে। এছাড়া ইতালি ও কিউবায় কিছু বিনিয়োগ রয়েছে। সবকিছু ধরলে তাঁর অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১০০ কোটি টাকা।
মারাদোনার আইনজীবী অ্যাঞ্জেলো পিসানি বলেছেন, দিয়েগোর উদারতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে অনেকেই ঠকিয়ে গিয়েছেন। এমনিতেই তাঁর আয়কর এখনও বেশ কিছু বাকি। এমনও শোনা গিয়েছে, একবার কর মেটাতে গিয়ে নিজের আংটি পর্যন্ত বিক্রি করেছিলেন। আসলে মারাদোনা যা উপার্জন করেছেন তা সঞ্চয় করতে পারেননি। পুমার মতো স্পোর্টস ব্র্যান্ডের মতো চুক্তি ছিল, তার অর্থও কম নয়। কিন্তু কিছুই তিনি রাখতে পারেননি, কিন্তু তাও যা রয়েছে, সেই নিয়ে এবার তাঁর আত্মীয়-পরিজন সংখ্যা দিনদিন বাড়তেই থাকবে।