দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবি সচিব তথা বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের হার্টে স্টেন্ট বসল । শুক্রবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিট নাগাদ বাইপাসের ধারে অ্যাপোলো হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। এই মুহূর্তে স্নেহাশিস ভাল আছেন বলেই জানা গিয়েছে।
এদিন সিএবি-র মিডিয়া সেলের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে স্নেহাশিসের শারীরিক অবস্থার কথা জানানো হয়েছে। সেখানে স্নেহাশিস জানিয়েছেন, “আমি ভাল আছি। অ্যাপোলো হাসপাতালের তরফে আমি বিশেষ যত্ন পাচ্ছি। ডক্টর আফতাব খান, ডক্টর সরোজ মণ্ডল, ডক্টর শুভ্র বন্দ্যোপাধায় ও টিম অ্যাপোলোকে ধন্যবাদ এভাবে আমার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্ট করার জন্য। আমি খুব তাড়াতাড়ি কাজে ফিরব।”
সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া এদিন দেখতে যান স্নেহাশিসকে। তারপরে তিনি জানান, “আমাদের অনেকক্ষণ কথা হয়েছে। উনি এখন ভাল আছেন। আমি নিশ্চিত উনি তাড়াতাড়ি কাজে ফিরবেন।”
গত ১২ জানুয়ারি স্নেহাশিস নিজ উদ্যোগে উডল্যান্ডস হাসপাতালে গিয়ে তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসক ডাঃ সপ্তর্ষি বসুর অধিনে রক্ত পরীক্ষা ও সিটি অ্যাঞ্জিও করেছিলেন। সেইসময় ধরা পড়ে তাঁরও আর্টারিতে ব্লকেজ রয়েছে। সৌরভের ক্ষেত্রে যে সমস্যা ছিল, আরসিএ, ডাক্তারি পরিভাষায় সিঙ্গল ভিসেল ডিজিজ, সেই সমস্যা দাদারও রয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি সৌরভ জিম করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, বোর্ড প্রেসিডেন্ট ব্যাক আউট হয়ে যান, চোখে মুখে অন্ধকার দেখতে থাকেন। সৌরভের থেকে ছয় বছরের বড় স্নেহাশিসের সেই সমস্যা হয়নি। তিনি আগে থেকে সতর্ক হয়ে গিয়েছিলেন, এবং পরীক্ষা করে নিয়েছিলেন বলে তাঁর ক্ষেত্রে কোনওরকম বিপত্তি ঘটেনি। এমনকি স্নেহাশিসও আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ হয়েই কাজকর্ম করছিলেন।
সৌরভদের পরিবারে কোলেস্টেরলের হিস্ট্রি রয়েছে। তাঁদের পরিবারে একাধিক জনের এই সমস্যা রয়েছে। সেই কারণে তাঁদের মধ্যেও সেই প্রবণতা রয়ে গিয়েছে। সৌরভ ও স্নেহাশিস, দুইজনই নিয়মিত শারীরিক কসরত করেন। তাঁরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন অতিবাহিত করেন। তাঁদের এমন সমস্যা হওয়ার কথাই নয়। কিন্তু পারিবারিক হৃদরোগের সমস্যা থাকলে সেটি তাদের পুত্র বা কন্যার মধ্যে থাকতে পারে, চিকিৎসা বিজ্ঞান সেটাই বলে। কোলেস্টেরলের ক্ষেত্রেও একই বিষয়।
স্নেহাশিসের অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টি হওয়ার পরে তাঁকে চারদিন হাসপাতালে রাখা হতে পারে। তিনি সুস্থই ছিলেন, সৌরভই তাঁকে এর মধ্যে একদিন বাড়িতেই এই ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি পরীক্ষা করাতে তাঁর এই সমস্যা ধরা পড়ে। আর্টারি থেকে যে ধমনী দিয়ে রক্ত সঞ্চালন হয়, সেটিই ব্লক রয়েছে তাঁর, সেই কারণে তাঁকে আগাম সতর্কতা হিসেবে স্টেন্ট বসালেন চিকিৎসকরা।