দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি দল তখন ক্যাপিটালসে স্থানান্তরিত হয়নি, দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস দলে তাঁরা সতীর্থ ছিলেন একদা। এমনও হয়েছে কোনও শহরে খেলতে যাওয়ার সময় বিমানে তাঁরা পাশাপাশি সিটে বসেছেনও।
পুরনো সেই সতীর্থ সম্পর্কে রীতিমতো তোপ দাগলেন বীরেন্দ্র সেহওয়াগ। যাঁর বিরুদ্ধে এই আক্রমণ তিনি অস্ট্রেলীয় নামী তারকা গ্লেন ম্যাকওয়েল। এই নামটি শুনলেই মনে আসে বিধ্বংসী এক ব্যাটসম্যানের কথা। যিনি উইকেটে থাকা মানে বিপক্ষ দলের চিন্তার কারণ হয়ে ওঠা।
বিশ্ব ক্রিকেটে তাঁকে একসময় বলা হতো, টোয়েন্টি ২০ ক্রিকেটের বাদশা। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ২৭৭ ম্যাচ খেলে ৬০৬৪ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১৫৪.২০। ৩১ বছর বয়সী ম্যাক্সওয়েলের নামের পাশে রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরি ও ৩৩টি হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু সেই তুলনায় আইপিএলে তিনি তেমন উজ্জ্বল নন।
আইপিএল ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত ৭৫টি ম্যাচে ১৪৪৫ রান করেছেন তিনি। গড় প্রায় ২০। স্ট্রাইকরেট ১৫৬ হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি বেশি, ফিফটি মাত্র ছয়টি। চলতি আসরসহ ছয়টি আসরে একবারের জন্যও ফিফটি করতে পারেননি ম্যাক্সওয়েল। শেষ ফিফটি করেছেন ২০১৬ সালে। তাঁর ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ হয়েছে এবারের আইপিএলে। এখনও পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচে তাঁর মোট রান ৪৮, খেলেছেন ৫৮ বল।
তিনি দলের মহাতারকা ব্যাটসম্যান। তাঁকে ঘিরে যে কোনও অধিনায়কের একটা কৌশল থাকে, কিন্তু তিনি কার্যত শূন্য হাতে ফেরেন বছরের পর বছর। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবও হারছে, আর ম্যাক্সের ব্যাটেও রানের খরা। দলের অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও বিরক্ত তাঁর প্রতি। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে প্রতি ম্যাচে দলে থেকে যান ম্যাক্সওয়েল।
ওই অস্ট্রেলীয়র এহেন পারফরম্যান্সে যথেষ্টই হতাশ লাগে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব দলের প্রাক্তন মেন্টর বীরেন্দ্র সেহওয়াগ। তিনি এক ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘আমি জানি না কেমন মঞ্চ পেলে ম্যাক্সওয়েল আগুন ঝরাবে। হায়দরাবাদের বিপক্ষে সে অনেক আগে নেমেছে, অনেক ওভার বাকি ছিল, কিন্তু পারেনি। এর আগের ম্যাচগুলোতে স্লগ ওভারে নেমেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।’’
বীরু আরও বলেছেন, ‘‘আমি গ্লেনের মননের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারি না। জানি না ও কী চাইছে! প্রতিবছর ঠিক একই ঘটনা দেখা যায়। নিলামে দাম থাকে চড়া কিন্তু খেলার মাঠে পারফরম্যান্স একই, সেই একই গল্প, যার কোনও অন্যথা হয় না। তবু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ওঁর পেছনে দৌড়ায়। এর কারণটাই আমি বুঝি না। পরের নিলামে তাঁর দাম ১০ কোটির বদলে এক কোটিতে নেমে আসা উচিত। কারণ যে ব্যাটসম্যানের গত চার বছরে কোনও হাফসেঞ্চুরি নেই, সেই ব্যাটসম্যান কিভাবে দলে টিকে থাকে, আর প্রথম একাদশে সুযোগ পায়, আমার অবাক লাগে।’’